পবিত্র রমজানে ৩০ দিন রোজা রাখেন মুসলমানরা। রোজার দিনে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকবেন মুমিনেরা। এছাড়াও যেকোনো ধরনের অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং বিনিময়ে জান্নাতে ঘর দেওয়া ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা।
যে ব্যক্তি এ মাসে তার মাওলার (আল্লাহর) নৈকট্য পাবে না সে এরপরে তার নৈকট্য লাভ করতে পারবে না। যে ব্যক্তির ওপর আল্লাহ এ মাসে রহম করবেন সে তার রহমতপ্রাপ্ত হবে আর যে ব্যক্তি তার রহমত থেকে বঞ্চিত হবে সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত।
রমজানের প্রাপ্তি সম্পর্কে অনেক সুসংবাদ দিয়েছেন রাসুল (সা.)।
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাহাবিদের সুসংবাদ দিয়ে বলেন- ‘তোমাদের কাছে রমজান মাস উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। তোমাদের ওপর আল্লাহ তাআলা এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এ মাস আগমনের কারণে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় লোহার বেড়ি পরানো হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।’ (নাসাঈ ২১০৬, মুসনাদে আহমদ ৭১৪৮)।
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! রমজান মাস এসেছে, তবে কী দোয়া পড়বো? তিনি বলেন, তুমি বলবে-
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ (তিরমিজি৩৫৩১, ইবনে মাজাহ ৩৮৫০)
রমজান এসেছে। এতে রয়েছে নিরাপত্তা, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে ঘর পাওয়ার মহাসফলতা। যে ব্যক্তি এ মাসে লাভবান হতে পারবে না তাহলে সে আর কখন লাভবান হবে? যে ব্যক্তি এ মাসে তার মাওলার (আল্লাহর) নৈকট্য পাবে না সে এরপরে তাঁর নৈকট্য লাভ করতে পারবে না। যে ব্যক্তির ওপর আল্লাহ এ মাসে রহম করবেন সে তাঁর রহমতপ্রাপ্ত হবে আর যে ব্যক্তি তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত।