বিয়ের আগের জরুরি ৭ প্রস্তুতি

মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই বিয়ের বিধান চলে আসছে। বিয়ে মানুষকে পবিত্র ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনের পথে নিয়ে যায়। ইসলামে বিয়েকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় একটি ইবাদত হিসেবে বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে এবং বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তার জন্য দেরি না করে বিয়ে করা ইমানি দায়িত্ব।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (বোখারি : ৫০৬৫, মুসলিম : ১৪০০)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সামর্থ্য হলে দেরি না করে বিয়ে করে নেওয়াই উত্তম। এ ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু প্রস্তুতি রয়েছে, যেগুলো গ্রহণ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। 

চলুন বিয়ের আগের জরুরি ৭ প্রস্তুতির কথা জেনে নেই-

 

১) নিজেকে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলা

বিবাহইচ্ছুক মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, বিয়ে আগে নিজেকে মুত্তাকি-পরহেজগার, পাপের কাজ এবং আল্লাহর অবাধ্যতার কাজ থেকে দূরে থাকার মানসিকতাপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কারণ, আমরা সবাই চাই আমাদের সঙ্গী যিনি হবেন তিনি যেন ফেরেশতার মতো মানুষ হন।

এ ক্ষেত্রে আমরা যদি আসলে তাই চাই, তবে আগে নিজেকে সকল দিক থেকে ভালো করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ, আল্লাহর সাধারণ নিয়ম হলো, ভালো মানুষের সঙ্গে ভালো মানুষ মিলিয়ে দেন। যদিও অনেক সময় ব্যতিক্রম দেখা যায়। এটা ভিন্ন বিষয়। অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা পরীক্ষা কিংবা অন্যকোনো উদ্দেশ্যে ব্যতিক্রম ঘটান।

২) আল্লাহর কাছে দোয়া

বিয়ের আগে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে; যেন তিনি আমাদের ভালো সঙ্গী দান করেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে সুরা ফুরক্বানের ৭৪ নম্বর আয়াতের শেষ অংশ সকাল-সন্ধ্যায়, উঠতে-বসতে সব সময় পড়তে হবে। এটি খুবই কার্যকর একটি দোয়া। যারা ভালো সঙ্গী কামনা করেন, তারা বিয়ের আগে নিয়মিত এই আমল করুন।

দোয়াটি হলো, رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ : রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউন, ওয়া জাআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

৩) দ্বীনদার সঙ্গী খোঁজা

বিয়ের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে একজন ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়ার স্বার্থে যার ভেতরে দ্বীনদারি আছে, তাকওয়া আছে, অল্পেতুষ্টি আছে এবং দুনিয়ার প্রতি কোনো মোহ নেই, লোভ নেই এরকম মানুষ খুঁজে নিতে হবে। কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর দ্বীনদারিতাকে গুরুত্বসহকারে দেখবে এবং দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পেয়ে তুমি জেতার চেষ্টা করবে।

৪) পার্টনারের অধিকার আগে থেকে জেনে নিতে হবে

বিয়ের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর অধিকার সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় দাম্পত্যজীবনে এসে নারী-পুরুষ একে অন্যের অধিকার খর্ব করেন,ক্ষুণ্ণ করেন। যার ফলে দাম্পত্যজীবনে অশান্তি লেগেই থাকে। এজন্যই বিয়ের আগে কোরআন-হাদিসের আলোকে জীবনসঙ্গীর অধিকার কী কী তা জেনে নিতে হবে।

৫) ছেলেরা হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা

বিয়ের আগে ছেলেরা হালাল উপার্জনের চেষ্ট করতে হবে। কারণ বিয়ের পর তার স্ত্রী এবং পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা ইসলামি শরিয়তের আলোকে তার ওপর আবশ্যক। হাঁ কেউ যদি স্ত্রী এবং পরিবারে ন্যূনতম ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম হন, তবে শরিয়ত তাকে বিয়ের বিকল্প হিসেবে সিয়াম পালনের নির্দেশ দেয়।

একইভাবে মেয়েদের গৃহস্থালির কাজগুলো ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায়, গৃহস্থালির কাজ না জানার কারণে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা কম হয়। সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

উল্লেখ্য, হালাল উপার্জন মানে লাখ লাখ টাকা নয়। বরং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপার্জনই যথেষ্ট।

৬) তালাকের মাসআলা জেনে নেওয়া

বিয়ের আগে তালাকের মাসআলা-মাসাইল ভালো করে জেনে নিতে হবে। কী পদ্ধতিতে তালাক দেওয়া জায়েজ, কোন পদ্ধতিতে দেওয়া নাজায়েজ, তালাক কত স্পর্শকাতর বিষয়, তালাকের কথা বলার আগে কতটা সাবধনতা অবলম্বন করতে হয়—ইত্যাদি জেনে নিতে হবে। কারণ, বেশিভাগ পরিবারকে দেখা যায় যে, তারা তালাক দেওয়ার পর আফসোস করেন। অনেকে বলেন, আমরা আসলে বিষয়টি জানতাম না। বোঝতাম না। এজন্যই বিয়ের আগে থেকে তালাকের মাসআলা-মাসাইল জেনে নেওয়া ভালো।

৭) পারিবারিক ব্যবস্থাপনা

বিয়ের পর পুরুষ তার শ্বশুরবাড়ির কার কার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন, কার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না, নারী তার স্বামীর বাড়ির কার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন, কার সঙ্গে পারবেন না, স্বামীর পরিবারে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য কতটুকু—ইত্যাদি বিষয়গুলো শরিয়তের আলোকে জেনে নেওয়া জরুরি।