পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা ‘গিলে’ নিচ্ছে চাঁদ

কোটি কোটি বছর ধরে মহাশূন্য পেরিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণাগুলো জমা হচ্ছে চাঁদের বুকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্য থেকে আসা শক্তিশালী কণাপ্রবাহ বা ‘সোলার উইন্ড’ এর মাধ্যমে পৃথিবীর অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও হিলিয়ামের মতো উপাদানগুলো প্রতিনিয়ত চাঁদের মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদ থেকে সংগৃহীত মাটির নমুনায় কার্বন ডাইঅক্সাইড, হিলিয়াম ও নাইট্রোজেনের অস্তিত্ব পাওয়ায় বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্বিধায় ছিলেন। আগে ধারণা করা হতো এর সবটুকুই সূর্য থেকে এসেছে। তবে নতুন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এর একটি বড় অংশ সরাসরি পৃথিবী থেকে সংগৃহীত।

নিউইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক ব্ল্যাকম্যান বলেন, ‘পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে কেবল শুরুতে নয়, বরং কোটি কোটি বছর ধরেই উপাদানের এই আদান-প্রদান চলছে।’

বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর কণা থেকে আমাদের রক্ষা করলেও এটি একটি লেজের মতো গঠন তৈরি করে, যাকে বলা হয় ম্যাগনেটোটেইল। প্রতিবার পূর্ণিমার সময় চাঁদ যখন এই ম্যাগনেটোটেইলের ভেতর দিয়ে যায়, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে ছিটকে যাওয়া কণাগুলো সরাসরি চাঁদের দিকে যাওয়ার সুড়ঙ্গ পথ পেয়ে যায়। চাঁদের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল না থাকায় কণাগুলো সহজেই চাঁদের বালিতে মিশে যায়।

ভবিষ্যৎ বসতি ও জ্বালানির সম্ভাবনায় গবেষকদের মতে, চাঁদের মাটি থেকে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লেষণ করে পানি ও জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। পৃথিবী থেকে সব রসদ নিয়ে না গিয়ে চাঁদের মাটি থেকেই অত্যাবশ্যকীয় উপাদান সংগ্রহের পথ প্রশস্ত হলো।

জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেনতারো তেরাদা মনে করেন, চাঁদের মাটি আসলে পৃথিবীর প্রাচীন বায়ুমণ্ডলের এক রাসায়নিক ‘আর্কাইভ’ বা দলিল। পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ এবং বায়ুমণ্ডলের বিবর্তন বুঝতে চাঁদের মাটিতে জমে থাকা এই কণাগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য হিসেবে কাজ করবে।

কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, আধুনিক পৃথিবীর শক্তিশালী চৌম্বকীয় পরিস্থিতিতেই সবচেয়ে বেশি বায়ুমণ্ডলীয় কণা চাঁদের দিকে ধাবিত হয়। এই প্রক্রিয়া আজও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: CNN