স্যাটেলাইটের আগুনে বদলে যাচ্ছে আকাশ, চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

প্রতিবছর হাজার হাজার স্যাটেলাইট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। মহাকাশ গবেষণার প্রসারে এটি নিয়মিত ঘটনা মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আমাদের আকাশ এখন ‘স্যাটেলাইটের চিতাঘর’ হয়ে উঠছে। এই প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া ধাতব কণা ওজোন স্তরের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘দ্য কনভারসেশন’ এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বায়ুমণ্ডল বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে লো আর্থ অরবিটে (LEO) থাকা স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব স্যাটেলাইটের আয়ু শেষ হলে মহাকাশে বর্জ্য কমাতে সেগুলোকে বায়ুমণ্ডলে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যাকে বলা হয় ‘ডিমিজ্যাবিলিটি’।

বিজ্ঞানীদের মতে, পুড়ে যাওয়ার সময় এসব স্যাটেলাইট থেকে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও সিসার মতো ধাতু নির্গত হয়। বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম পুড়ে তৈরি হওয়া ‘অ্যালুমিনা কণা’ বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকে। এই কণাগুলো ওজোন স্তরের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বাধা দেয়, ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

পারডু ইউনিভার্সিটির ভূ-পদার্থবিদ ড্যান সিজিকো বলেন, ‘মহাকাশ যুগে মানুষ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মতো সংবেদনশীল স্তরে এমন সব কৃত্রিম পদার্থ ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা আগে কখনো ছিল না। বায়ুমণ্ডলের এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।’

গবেষণা বলছে, কক্ষপথে স্যাটেলাইটের ভিড় বাড়ায় ‘কেসলার সিনড্রোম’ বা একটির সঙ্গে অন্যটির সংঘর্ষের ফলে ধারাবাহিক ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকিও বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও লাখ লাখ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকায় বিশেষজ্ঞরা এখনই কঠোর বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন। মৃত স্যাটেলাইটগুলোকে বায়ুমণ্ডলে না পুড়িয়ে দূরের কোনো নিরাপদ কক্ষপথে (Graveyard Orbit) পাঠানোর প্রস্তাব করা হলেও, তাতে খরচ ও জ্বালানি উভয়ই বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

NB/FJ
আরও পড়ুন