সূর্যের কাছে এসে উজ্জ্বল হলো রহস্যময় ধূমকেতু ‘থ্রি-আই অ্যাটলাস’

মহাকাশের বিশালতা থেকে ভেসে আসা এক বিরল আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠায় রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ‘থ্রি-আই অ্যাটলাস’ (3I/ATLAS) নামক এই ধূমকেতুটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনো এক অজানা জগত থেকে আগত তৃতীয় অতিথি। সম্প্রতি সূর্যের কাছাকাছি আসার পর এর পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে।

হঠাৎ উজ্জ্বলতার রহস্য: সাবলিমেশন

নাসার স্পেস মিশন ‘স্পিয়ারএক্স’ (SPHEREx) দীর্ঘ সময় ধরে এই ধূমকেতুটিকে পর্যবেক্ষণ করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের সবচেয়ে কাছ দিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই মাস পর এর উজ্জ্বলতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের উত্তাপে ধূমকেতুটির ভেতরে জমে থাকা প্রাচীন বরফ গলে সরাসরি গ্যাসে রূপান্তরিত হচ্ছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘সাবলিমেশন’।

মহাকাশের ‘পানির পাইপ’

থ্রি-আই অ্যাটলাস বর্তমানে সূর্য থেকে পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্বের প্রায় তিন গুণ দূরে অবস্থান করছে। সাধারণত এত দূরত্বে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার কথা নয়। অথচ এই ধূমকেতুটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪০ কেজি পানি মহাকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা একে মহাকাশে চালু থাকা একটি শক্তিশালী ‘পানির পাইপ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

জীবনের প্রাথমিক উপাদানের সন্ধান

ধূমকেতুটি থেকে নির্গত গ্যাস বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
  • মিথেন ও মিথানল
  • সায়ানাইড

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপাদানগুলো জীবনের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এই ধূমকেতুতে পানির তুলনায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেশি, যা নির্দেশ করে এটি অত্যন্ত শীতল ও প্রাচীন কোনো নক্ষত্রজগতের পরিবেশে তৈরি হয়েছিল।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ধূমকেতুটির কেন্দ্রের আকার এক কিলোমিটারের চেয়েও ছোট। তবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব হবে যে, মহাজগতে পানি এবং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো কীভাবে এক নক্ষত্রজগত থেকে অন্য জগতে ছড়িয়ে পড়ে।

মহাকাশের এই রহস্যময় পরিব্রাজক আমাদের সৌরজগতের বাইরের জগত সম্পর্কে নতুন কোনো বৈপ্লবিক তথ্য দেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।