পৃথিবী থেকে মহাকাশের অসীম নীলিমার দিকে আমরা তাকিয়ে থাকলেও, মহাকাশ থেকেও আমাদের এই নীল গ্রহের কিছু নির্দিষ্ট স্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যায়। মহাকাশচারীদের চোখে ধরা পড়া এই স্থানগুলো মূলত মানুষের স্থাপত্যশৈলী এবং প্রকৃতির বিশালতার এক অনন্য মেলবন্ধন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবী এবং মহাকাশের সীমানা হিসেবে পরিচিত ‘কারম্যান লাইন’ (যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত) থেকে নিচের এই স্থানগুলো সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা যায়।
মহাকাশ থেকে দৃশ্যমান উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহ
১. বিংহাম কপার মাইন, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটির কাছাকাছি অবস্থিত এই খনিটি বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট তামার খনি। এর বিশাল গভীরতা ও আয়তন মহাকাশ থেকে একে সহজেই দৃশ্যমান করে তোলে।
২. থ্রি গর্জেস ড্যাম, চীন: চীনের ইয়াংজি নদীর ওপর নির্মিত বিশ্বের এই বৃহত্তম বাঁধটি প্রকৌশলবিদ্যার এক বিস্ময়। এর বিশাল কাঠামো মহাকাশচারীদের ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
৩. পাম জুমেইরা, দুবাই: দুবাইয়ের সাগরে নির্মিত খেজুর গাছের আকৃতির এই কৃত্রিম দ্বীপটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এর নিখুঁত নকশা ও আকৃতি মহাকাশ থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখায়।
৪. চীনের প্রাচীর: বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম চীনের প্রাচীর নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা জানান যে সঠিক আলো ও আবহাওয়া পরিস্থিতিতে এই বিশাল প্রাচীরের কিছু অংশ মহাকাশ থেকে দেখা সম্ভব।
৫. আলোকোজ্জ্বল মহাসড়ক: বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বড় বড় মহাসড়কগুলো রাতের বেলা কৃত্রিম আলোয় এতই ঝলমল করে যে, মহাকাশ থেকে এগুলো আলোর রেখার মতো স্পষ্ট ফুটে ওঠে।
মানব সভ্যতার অগ্রগতির স্মারক
মহাকাশ গবেষকদের মতে, এই স্থাপনাগুলো কেবল পর্যটন বা অর্থনীতির অংশ নয়, বরং এগুলো মানব সভ্যতার অগ্রগতি ও আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের উন্নতির সাক্ষী। মহাকাশের অন্ধকার থেকে পৃথিবীর এই নির্দিষ্ট বিন্দুগুলো খুঁজে পাওয়া যেকোনো মহাকাশচারীর জন্যই এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি মহাকাশ থেকে? গবেষণায় নতুন সূত্র
