মহাকাশে একটি তারার জীবনাবসানের এক বিস্ময়কর দৃশ্য ধারণ করেছে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মরতে থাকা তারাটি তার শেষ সময়ে চারপাশে গ্যাস ও ধুলোর এক উজ্জ্বল মেঘ তৈরি করেছে, যা দেখতে অনেকটা মানুষের মস্তিষ্কের মতো। বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত আকৃতির নীহারিকাটির (Nebula) নাম দিয়েছেন ‘এক্সপোজড ক্রেনিয়াম’ বা খোলা খুলি। এর দাপ্তরিক নাম ‘পিএমআর-১’ (PMR-1)।
নাসার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যখন কোনো তারা তার আয়ুর শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সেটি তার বাইরের স্তরগুলো মহাকাশে ছুড়ে ফেলে। এই পরিত্যক্ত গ্যাস ও ধুলো মিলেই তৈরি হয় নীহারিকা। জেমস ওয়েবের তোলা ছবিতে নীহারিকাটির বাইরের যে খোলস দেখা যাচ্ছে, তা মূলত হাইড্রোজেন গ্যাসের আবরণ। ভেতরের অংশে রয়েছে আরও জটিল গ্যাসের বিন্যাস। মাঝখানের কালো রেখাটি মূলত কেন্দ্রের মৃতপ্রায় তারাটি থেকে নির্গত তীব্র শক্তির ফল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নীহারিকাটি এক দশক আগে স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ইনফ্রারেড আলোতে প্রথম শনাক্ত করেছিল। তবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড প্রযুক্তির কল্যাণে এবার এর গঠন ও রঙের নিখুঁত চিত্র পাওয়া গেছে। ইনফ্রারেড আলো ব্যবহারের ফলে ধুলোর আস্তরণ ভেদ করে ভেতরের কাঠামোটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মূলত বিগ ব্যাং বা মহাবিশ্ব সৃষ্টির পরবর্তী আলো, নক্ষত্রের জন্ম এবং সৌরজগতের বিবর্তন নিয়ে কাজ করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই নির্দিষ্ট তারাটি যদি পর্যাপ্ত ভরের হয়, তবে ভবিষ্যতে এটি একটি বিশাল ‘সুপারনোভা’ বিস্ফোরণের মাধ্যমে তার শেষ যাত্রা সম্পন্ন করতে পারে। মহাকাশের এই বিরল দৃশ্য বিজ্ঞানীদের নক্ষত্রের মৃত্যু প্রক্রিয়া বুঝতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।