মিল্কিওয়ের রহস্যময় সংকেতের উৎস কি 'ডার্ক ম্যাটার'

আমাদের আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে আসা দীর্ঘদিনের রহস্যময় সংকেতের সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘকাল ধরে এই সংকেত নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা এবং ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও নতুন এক গবেষণা বলছে, এর নেপথ্যে রয়েছে মহাবিশ্বের অদৃশ্য পদার্থ ‘ডার্ক ম্যাটার’।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের একদল গবেষকের এই যুগান্তকারী গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. শ্যাম বালাজি জানান, মহাকাশের প্রথাগত বড় ঘটনাগুলো যেমন নক্ষত্রের বিস্ফোরণ (সুপারনোভা) দিয়ে এই অদ্ভুত সংকেতগুলো পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে তারা বিকল্প ও নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, ‘ডার্ক ম্যাটার’ এমন এক রহস্যময় পদার্থ যা সরাসরি দেখা যায় না এবং এটি আলো প্রতিফলন বা নির্গত করে না। তবে ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশই এই অদৃশ্য পদার্থ দিয়ে গঠিত।

নতুন এই গবেষণায় ‘এক্সসাইটেড ডার্ক ম্যাটার’ (Excited Dark Matter) নামক একটি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই তত্ত্বে বলা হয়েছে, ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলো যখন একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়, তখন বিপুল শক্তি জমা হয়। পরবর্তীতে সেই শক্তি ‘পজিট্রন’ নামক কণা আকারে নির্গত হয়।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই পজিট্রন নির্গমনের মাধ্যমেই মহাকাশে দেখা দেওয়া তিনটি প্রধান রহস্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এগুলো হলো ৫১১-কেভি (keV) শক্তির বিকিরণ, ২-মেগা ইলেকট্রন ভোল্ট গামা রশ্মি এবং গ্যাসের অস্বাভাবিক আয়নাইজেশন।

গবেষক দলটি আশা করছেন, ভবিষ্যতে ‘চেরেনকভ টেলিস্কোপ অ্যারে অবজারভেটরি’র মতো উন্নত মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে এই তত্ত্বটি হাতেনাতে প্রমাণ করা যাবে। যদি এই ধারণাটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য ‘ডার্ক ম্যাটার’ সম্পর্কে মানবজাতির জ্ঞান এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।