মঙ্গল গ্রহে একসময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’ লাল গ্রহের বুকে এমন কিছু জটিল জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে, যা পৃথিবীতে জীবনের মৌলিক ভিত্তি বা প্রাণের ‘বিল্ডিং ব্লক’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছে একটি প্রাচীন হ্রদের শুকনো তলদেশ থেকে সাতটি জৈব অণু শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি অণু আগে কখনো মঙ্গলে দেখা যায়নি। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে যদি মঙ্গলে কখনো অণুজীব থেকে থাকে, তবে তার রাসায়নিক চিহ্ন এখনো মাটির নিচে টিকে থাকতে পারে।
গবেষণার প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগের সংরক্ষিত জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছি। তবে এটি সরাসরি ‘জীবন’ কি না, তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আমরা যা পেয়েছি তা ডিএনএ তৈরির উপাদানের মতো সহজ কথায় বলতে গেলে এটি ইটের মতো। তবে মনে রাখতে হবে ইট মানেই কিন্তু আস্ত বাড়ি নয়, যদিও বাড়ি তৈরির জন্য ইট অপরিহার্য।’
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্রহবিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কোটস বলেন, ‘পৃথিবীতে যখন জীবনের সূচনা হচ্ছিল, তখন মঙ্গলেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিবেশ বিদ্যমান ছিল। সেখানে তরল পানি প্রবাহিত হতো এবং একটি সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডল ছিল। ফলে সেখানে জীবন শুরু না হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, মঙ্গলের তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ ও পাতলা বায়ুমণ্ডলের কারণে পৃষ্ঠতলের সব জৈব পদার্থ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু কিউরিওসিটির এই আবিষ্কার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে যে, মঙ্গলের ভূগর্ভস্থ পরিবেশে জটিল জৈব উপাদান কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
এই আবিষ্কার আগামী দিনের মঙ্গল অভিযানগুলোকে আরও গতিশীল করবে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার ২০২৮ সালে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এটি মাটির প্রায় দুই মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করতে সক্ষম হবে, যা জৈব অণুগুলোর উৎস সম্পর্কে আরও নিখুঁত ধারণা দেবে। গবেষণার এই ফলাফলটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান