রোববার (৩১ মে) রাতের আকাশে দেখা যেতে যাচ্ছে এক বিরল ও রোমাঞ্চকর মহাজাগতিক ঘটনা ‘ব্লু মুন’। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশসহ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ এই ব্যতিক্রমী পূর্ণিমা সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ব্লু মুন তুলনামূলকভাবে একটি বিরল ঘটনা, যেখানে একই ইংরেজি ক্যালেন্ডার মাসে দুটি পূর্ণিমা ঘটে এবং দ্বিতীয় পূর্ণিমাটিকে ‘ব্লু মুন’ বলা হয়। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালের আগস্টে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নামের মধ্যে ‘ব্লু’ থাকলেও চাঁদ নীল রঙে দেখা যাবে না। এটি স্বাভাবিক রূপালি-সাদা বা সোনালি আভাতেই আকাশে দৃশ্যমান হবে। পৃথিবীর দীর্ঘ ক্যালেন্ডার ও চাঁদের প্রায় ২৯.৫ দিনের আবর্তনকাল মিলিয়ে প্রতি দুই থেকে তিন বছর অন্তর এমন ঘটনা ঘটে, আবার কখনো ১৯ বছরে সর্বোচ্চ সাতবারও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এবারের পূর্ণিমা একই সঙ্গে একটি ‘মাইক্রো মুন’ও। যখন চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থান বা অ্যাপোজির কাছাকাছি থাকে এবং সেই সময়েই পূর্ণিমা ঘটে, তখন তাকে মাইক্রো মুন বলা হয়। এবার চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থান করছে, ফলে এটি স্বাভাবিক পূর্ণিমার তুলনায় কিছুটা ছোট দেখাবে।
বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এবারের চাঁদ ২০২৬ সালের মধ্যে সবচেয়ে দূরবর্তী ও আকারে ছোট পূর্ণিমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা খালি চোখে প্রায় ১০ শতাংশ ছোট মনে হতে পারে।
আমেরিকা ও ইউরোপে ৩০ মে রাতে চাঁদটি সর্বাধিক পূর্ণ দেখা গেলেও বাংলাদেশসহ এশিয়ায় এটি ৩১ মে রাতেই সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি দেখার জন্য কোনো টেলিস্কোপের প্রয়োজন নেই, খালি চোখেই দেখা সম্ভব।
সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চাঁদ যখন দিগন্তের কাছাকাছি থাকবে, তখন বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবে এটি সোনালি বা কমলা আভায় দেখা যেতে পারে, যা ছবি তোলার জন্যও উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচিত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এবারের পর ২০২৮ সালের আগে আর এমন ‘ব্লু মুন’ দেখা যাবে না, তাই আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি এক বিরল ও আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য।