দেশের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে অংশ নিতে বৈধ আবেদন করেছেন ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮ জন প্রার্থী।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার তরুণদের এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেশজুড়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব আবেদনকারীর মধ্য থেকেই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৪ জেলার প্রতিটিতে ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হবে। ফলে বৈধ আবেদনকারীর হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকায় প্রতিযোগিতার মাত্রা আরও বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ সেখানে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
শনিবার পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটির আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ব্যাচের প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস। এ সময়ে ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।
প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক দিক শেখানো হবে।