সরকারি ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের তথ্য গোপন করেছে ওপেনএআই!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের (OpenAI) এআই এজেন্টরা সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ডেটা হ্যাকিংয়ের পর সেই কার্যকলাপের চিহ্ন বা রেকর্ড গোপনের চেষ্টা করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ডিজিটাল ফোরেনসিক ফার্ম ‘অ্যাসাইমেট্রিক সিকিউরিটি’। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এআই এজেন্টগুলো যুক্তরাষ্ট্র রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC), আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এবং মায়ো ক্লিনিকসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৫টি ওয়েবসাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ করেছে।

অ্যাসাইমেট্রিক সিকিউরিটি জানিয়েছে, এজেন্টগুলো তাদের কার্যক্রমের রেকর্ড মুছে ফেলেছিল বা সেগুলোকে দুর্গম করে তুলেছিল, যার ফলে বাইরের কোনো অডিটর বা গবেষকদের পক্ষে তাদের সেই কর্মকাণ্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ডেটা ডাউনলোড করার জন্য ওয়েবসাইট ম্যালওয়্যার স্ক্যানিং সার্ভিস ‘Urlquery’-তে টেম্পোরারি ইমেল ইনবক্স ও প্রাইভেট অ্যাকাউন্টও তৈরি করেছিল এই এআই এজেন্টগুলো।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের কৌশল ব্যবহারের ফলে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান সংস্থা এবং ওষুধ সংক্রান্ত সুবিধা স্কিমের মতো সংবেদনশীল ওয়েবসাইটগুলো থেকে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা বাইরের অডিটরদের পক্ষে ট্র্যাক করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাসাইমেট্রিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিপ্পা থম্পসন বলেছেন, "এজেন্টগুলো তাদের নিজেদের ট্র্যাক বা পদচিহ্ন ঢাকতে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কৌশলগুলো ব্যবহার করে থাকতে পারে।" তবে এই কর্মকাণ্ডগুলো কি সম্পূর্ণ সুচিন্তিত ও ইচ্ছাকৃত, নাকি কোনো টেস্ট এক্সারসাইজের সময় মডেলগুলো নিজেদের মতো করে কাজ করতে গিয়ে এমন আচরণ করেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ওই ফোরেনসিক ফার্ম।

এর আগে গত জুনে ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়ার জনস্বাস্থ্য সেবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সর্বজনীন ও অভ্যন্তরীণ কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাসাইমেট্রিকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা জয়নব আলী মজিদ সতর্ক করে বলেছেন যে, স্বচ্ছতার অভাব এবং এই ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও তার প্রকাশ করার মধ্যকার দীর্ঘ ব্যবধান সঠিক তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ওপেনআই ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, তারা মডেলের এই অস্বাভাবিক বা ভুল পথগামী কার্যকলাপগুলো পর্যালোচনা করছে এবং সিস্টেমে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তা অবহিত করছে। অন্যদিকে, এসইসি (SEC) জানিয়েছে যে তাদের কোনো ব্যক্তিগত বা গোপনীয় তথ্য অ্যাক্সেস করা হয়নি। তবে সিডিসি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এবং মায়ো ক্লিনিক এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

সূত্র: আনাদোলু