রকেটের থ্রাস্টারে উড়বে টেসলার নতুন রোডস্টার

ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা নতুন প্রজন্মের রোডস্টার গাড়ির নকশা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। গাড়িটিতে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তির আদলে তৈরি থ্রাস্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোম্পানির প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে বিশেষ ফ্যান ও থ্রাস্টারের সাহায্যে বাঁকানো র‌্যাম্প বেয়ে উঠে ঘুরে আবার মাটিতে নামতে দেখা যায়।

টেক্সাসের ওয়াকোর কাছে আয়োজিত অনুষ্ঠানে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গাড়িটিকে প্রচলিত চালকনির্ভর গাড়ির শেষ প্রজন্মের অন্যতম সেরা উদ্ভাবন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, গাড়িটি এমন কিছু কৌশল দেখাতে পারবে, যা জেমস বন্ডের চলচ্চিত্রেও দেখা যায়নি।

তিন সংস্করণে আসছে রোডস্টার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলা নতুন রোডস্টারের তিনটি সংস্করণ বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে।

পারফরম্যান্স: দুই আসনের এই সংস্করণকে সড়কে চলাচলের উপযোগী হিসেবে বর্ণনা করেছে টেসলা। এতে সক্রিয় অ্যারোডাইনামিক ব্যবস্থা এবং ট্র্যাক ও সড়কে পারফরম্যান্স বাড়াতে বিশেষ সাকশন ব্যবস্থা থাকবে।

থ্রাস্ট: দুই আসনের এই সংস্করণে পেছনে স্থাপন করা ঠান্ডা গ্যাসের থ্রাস্টার থাকবে। কোম্পানির দাবি, এর সাহায্যে গাড়িটি এক সেকেন্ডের কম সময়ে ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে পারবে।

রকেট: এক আসনের এই সংস্করণে গাড়ির বিভিন্ন স্থানে ১০টি ঠান্ডা গ্যাসের থ্রাস্টার থাকবে। এটি বিশেষ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে বিক্রির জন্য বিবেচিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেসলার দাবি অনুযায়ী, তিনটি সংস্করণেই একবার চার্জে ৩০০ মাইল চলার সক্ষমতা এবং ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি সর্বোচ্চ গতির লক্ষ্য রয়েছে।

কীভাবে শূন্যে উঠবে গাড়ি?

টেসলার প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লার্স মোরাভির ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে ১০টি থ্রাস্টার ও ৬০০ লিটার ধারণক্ষমতার সংকুচিত বাতাসের ব্যবস্থা থাকবে। এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে অল্প সময়ের জন্য শূন্যে তোলা ও ঘোরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, গাড়ির ভেতরের ব্যবহারযোগ্য জায়গায় কার্বন ফাইবারে মোড়ানো উচ্চচাপের গ্যাসধারক পাত্র বা সিওপিভি স্থাপন করা হবে। তবে বাস্তব সড়কে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে, তা স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রদর্শনীতে গাড়িটি সাইবারক্যাব, সাইবারট্রাক, টেসলা সেমি, মডেল ওয়াই ও মডেল থ্রি গাড়ির ওপর দিয়ে উঠে যাওয়ার কৌশলও দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংরক্ষণে লাখ ডলার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেসলার ওয়েবসাইটে পারফরম্যান্স সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার এবং থ্রাস্ট সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার সংরক্ষণমূল্য দেখানো হয়েছে। রকেট সংস্করণটি আমন্ত্রণের ভিত্তিতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এগুলো চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন রোডস্টারের উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য ২০২৮ সাল। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টার উন্মোচনের পর কয়েক দফা সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছিল।

প্রযুক্তির প্রদর্শনী, নাকি বাস্তব গাড়ি?

মাস্ক গাড়িটি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্নেক রিভার ক্যানিয়ন অতিক্রম করার চেষ্টা করার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে সেটি এখনো পরিকল্পনা বা সম্ভাবনার পর্যায়ে; সম্পন্ন কোনো পরীক্ষা নয়।

নতুন রোডস্টারের নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের এসআর-৭১ গোয়েন্দা বিমান ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রভাব রয়েছে বলে টেসলা জানিয়েছে। নকশাটি আগের সংস্করণের তুলনায় আরও কৌণিক এবং আক্রমণাত্মক।

সব মিলিয়ে, টেসলার প্রদর্শনীতে এমন কিছু প্রযুক্তির ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যা সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির চেয়ে আলাদা। তবে গাড়িটি এখনো বাজারে সরবরাহ করা হয়নি। উড্ডয়নসদৃশ কৌশল, এক সেকেন্ডের কম সময়ে গতি তোলা এবং অন্যান্য দাবির বাস্তব কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন পর্যায়ের গাড়ির স্বাধীন পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হবে।