সাইবার নিরাপত্তা ও উন্নত কোডিং প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি বুধবার (২৮ অক্টোবর) ‘জেমিনি ৪ কার্বন’ নামে নতুন একটি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)মডেল উন্মোচন করেছে। সফটওয়্যারের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা শনাক্ত, সেগুলো কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি পরীক্ষা এবং ত্রুটি সংশোধনের সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই মডেলে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মডেলটি উন্মোচনের মাধ্যমে AI-ভিত্তিক কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তার বাজারে OpenAI এবং Anthropic-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও জোরদার করছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট।
এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ‘জেমিনি ৪ আর্গন’ উন্মোচন করেছিল গুগল। ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জেমিনি পরিবারের এআই মডেল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন সংস্করণটি আনা হয়েছে।
গুগলের দাবি, সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন কাজে জেমিনি ৪ কার্বন উন্নত পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। এর প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা, দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি পরীক্ষা করা এবং সফটওয়্যারের ত্রুটি সংশোধনে সহায়তা করা।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, নিরাপদ কোড তৈরিতে জেমিনি ৪ কার্বন আগের মডেল জেমিনি ৪ আর্গনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সাফল্যের হার দেখিয়েছে।
তবে এই ফলাফল গুগলের নিজস্ব বেঞ্চমার্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। স্বাধীন পরীক্ষায় একই ফল পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও যাচাই প্রয়োজন।
জেমিনি ৪ কার্বনকে জটিল ও দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রকৌশল এবং সফটওয়্যার উন্নয়নসংক্রান্ত কাজ সামলানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।
এর ফলে বড় সফটওয়্যার প্রকল্পে কোড বিশ্লেষণ, নিরাপত্তার ত্রুটি শনাক্ত, সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি এবং কোডের মান উন্নয়নের মতো কাজে মডেলটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এআই-এর দেওয়া কোড বা নিরাপত্তা বিশ্লেষণ যাচাই না করে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে প্রয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে মানবীয় তদারকি অপরিহার্য।
গুগল জানিয়েছে, জেমিনি ৪ কার্বন প্রথম পর্যায়ে তাদের ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর আওতায় নির্বাচিত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও পরীক্ষা ও উন্নত করার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তায় এআই-এর ব্যবহার যেমন প্রতিরক্ষামূলক কাজে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, তেমনি একই প্রযুক্তি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বহন করে। তাই কারা এই মডেল ব্যবহার করতে পারবেন, কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং সম্ভাব্য অপব্যবহার কীভাবে ঠেকানো হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গুগলের ঘোষিত প্রাথমিক মূল্য অনুযায়ী, জেমিনি ৪ কার্বনের ইনপুট টোকেনের প্রতি ১০ লাখে খরচ ২ ডলার এবং আউটপুট টোকেনের প্রতি ১০ লাখে ১০ ডলার। জেমিনি ৪ আর্গনের প্রাথমিক মূল্যও একই ছিল।
এআই মডেলের ক্ষেত্রে ইনপুট টোকেন বলতে সাধারণত মডেলকে দেওয়া নির্দেশনা ও তথ্য বোঝায়; আর আউটপুট টোকেন হলো মডেলের তৈরি করা উত্তর বা ফলাফল। প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে ব্যবহারের পরিমাণ ও কাজের ধরনের ওপর।
জেমিনি ৪ কার্বনের উন্মোচন দেখাচ্ছে, উন্নত AI-এর প্রতিযোগিতা এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা লেখা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সফটওয়্যার নির্মাণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং জটিল প্রকৌশলগত কাজেও AI-এর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে গুগলের দাবি অনুযায়ী উন্নত পারফরম্যান্স বাস্তব ব্যবহারে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে স্বাধীন পরীক্ষার ফল, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর।
সূত্র: রয়টার্স