অপ্রতিরোধ্য ভারতের দম্ভ চূর্ণ

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার দাপুটে জয়

ভারতের অপরাজেয় রাজত্বে আঘাত আনলো দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা দলটাকে থামালো প্রোটিয়ারা। ভারতের দম্ভ চূর্ণ করে তুলে নিলো দাপুটে জয়।

রোববার ঘরের মাঠেই ভারতকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের বিধ্বস্ত করে তুলে নিয়েছে ৭৬ রানের জয়।

আহমেদাবাদে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। যা তাড়া করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১১১ পর্যন্ত করতে পারে স্বাগতিক ভারত।

এই হারে থামলো বিশ্বকাপে ভারতের জয়রথ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর হারের তিক্ত স্বাদ পেল ম্যান ইন ব্লুরা।

গত ২০২৪ বিশ্বকাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। ৯ ম্যাচ খেলে জিতেছিল ৮ ম্যাচে, অন্যটা পরিত্যক্ত হয়৷ আর এবার গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের সবগুলোই জেতে তারা।

তবে এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইটে এসেই ধাক্কা খেল দলটি। প্রোটিয়াদের কাছে কোনো পাত্তাই পেলো না স্বাগতিকরা। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভালো হয়নি, শুরুতেই হোঁচট খায় তারা।

স্কোরবোর্ডে মাত্র ২০ রান জমা করতেই ৩ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে নিয়ে গড়েন ৯৭ রানের জুটি।

২৯ বলে ৪৫ রান করে ব্রেভিস ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। আর ভারতীয় বোলারদের কচুকাটা করে মিলার ফেরেন ৩৫ বলে ৬৩ রান করে। শেষ দিকে ২৪ বলে ৪৪ রান করেন ট্রিস্টান স্টাবস।

জাসপ্রিত বুমরাহ নেন ১৫ রানে ৩ উইকেট। তাতেই বিশ্বকাপে ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। তার উইকেট সংখ্যা এখন ৩৩টি।

রান তাড়ায় অসহায় হয়ে পড়ে ভারত। পাওয়ার প্লেতে ৩১ রান তুলতেই হারায় ৩ উইকেট। রানের খাতা খোলার আগেই ইশান কিষান ফেরেন প্রথম ওভারেই, ১ রান নিয়ে ফেরেন তিনে নামা তিলক ভার্মা।

আগের তিন ম্যাচেই ০ রানে আউট হওয়া অভিষেক শর্মা আজ রান পেয়েছেন বটে, তবে ১২ বলে ১৫ রানেই শেষ হয় তার দৌড়। শুরুর এমন ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভারত।

ওয়াশিংটন সুন্দর ও সূর্যকুমার যাদবও এদিন থিতু হতে পারেননি উইকেটে। সুন্দর আউট হন ১১ বলে ১১ রান করে। আর অধিনায়ক সূর্যকুমার ফেরেন ২২ বলে ১৮ রান করে।

হার্দিক পান্ডিয়া (১৮), রিঙ্কু সিংও (০) হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১৫ ওভারে ৮৮ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারায় ভারত। ১ ওভারেই ৩ উইকেট নেন কেশভ মহারাজ।

একশ’র আগেই যখন ভারত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়, তখন শিভাম দুবের ৩৭ বলে ৪২ রান লজ্জা এড়ায়৷ তবে হার এড়াতে পারেনি। ১১১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।

প্রোটিয়াদের হয়ে মার্কো জেনসেন শিকার করেন ৪ উইকেট। এছাড়া কেশভ মহারাজ ৩টি, কর্বিন বোশ ২টি ও এইডেন মার্করাম নেন ১টি উইকেট।