২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে অত্যন্ত আবেগঘন, নাটকীয় ও বিতর্কিত এক রাত পার করলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র।
মাঠের ভেতরে ও বাইরের চরম বিশৃঙ্খলার এই রাতে প্রতিপক্ষ করিতিবার কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে নেইমারের দল সান্তোস।
ব্রাজিলের শীর্ষ ঘরোয়া ফুটবল লিগ ‘কাম্পেওনাতো ব্রাসিলিরো’-র ১৬তম রাউন্ডের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সান্তোস ও করিতিবো। ইনজুরি কাটিয়ে কিছুদিন আগেই সান্তোসের শুরুর একাদশে ফিরেছিলেন নেইমার জুনিয়র।
রোববারের (১৭ মে) এই ম্যাচটি তাঁর জন্য ছিল ক্যারিয়ারের অন্যরকম এক আবেগের মুহূর্ত। কারণ, সোমবারই ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য সেলেসাওদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন।
৫৫ জনের প্রাথমিক দলে থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে নিজের জায়গা নিশ্চিত করার তীব্র মানসিক চাপ কাজ করছিল তাঁর ওপর। ম্যাচ শুরুর আগে যখন ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত বাজছিল, তখন ক্যামেরার সামনেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে অঝোরে কেঁদে ফেলেন এই সান্তোস তারকা।
ম্যাচের আসল নাটকীয়তা ও বিতর্কের শুরু হয় খেলার দ্বিতীয়ার্ধে। সান্তোসের কোচিং স্টাফ মাঠ থেকে ৩১ নম্বর জার্সিধারী ডিফেন্ডার গনজালো এসকোবারকে তুলে নেওয়ার জন্য অফিশিয়াল সাবস্টিটিউশন স্লিপ জমা দিয়েছিলেন।
কিন্তু ফোর্থ অফিশিয়াল তাঁর ইলেকট্রনিক বোর্ডে মারাত্মক ভুল করে এসকোবারের পরিবর্তে নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন।
সেই মুহূর্তে নেইমার সামান্য চোট পেয়ে মাঠের ঠিক বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বোর্ডে নিজের ১০ নম্বর জার্সি দেখে চরম অবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে নেইমার রেফারি বা লাইন্সম্যানের কোনো অনুমতি ছাড়াই হন্তদন্ত হয়ে সরাসরি মাঠে ঢুকে পড়েন।
ফুটবলীয় নিয়ম ভেঙে অনুমতি ছাড়া মাঠে প্রবেশ করায় ম্যাচ রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে নেইমারকে হলুদ কার্ড দেখান।
হলুদ কার্ড দেখার পর নেইমার আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি সাইডলাইনে গিয়ে ফোর্থ অফিশিয়ালের কাছ থেকে মূল সাবস্টিটিউশন পেপারটি কেড়ে নেন।
এরপর তিনি সেটি মাঠের রেফারি ও টেলিভিশন ক্যামেরার উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করেন, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল মাঠ ছাড়ার কথা ডিফেন্ডার এসকোবারের, ১০ নম্বর জার্সিধারী নেইমারের নয়।
কিন্তু ততক্ষণে অফিশিয়াল বোর্ডে ১০ নম্বর উঠে যাওয়ায় এবং ম্যাচ রেফারিদের অনমনীয় সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ নেইমারকেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
তাঁর পরিবর্তে মাঠের ভেতরের পজিশনে নামেন রবিনহো জুনিয়র। মাঠ ছাড়ার সময় রেফারিদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও নানাবিধ অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করতে দেখা যায় এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে। নেইমারের এমন আচরণ এবং মাঠের এই চরম বিশৃঙ্খলা ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।