পবিত্র হজের এহরাম পরিহিত সাধারণ পোশাকেও পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামকে চিনে নিতে বিন্দুমাত্র কষ্ট হয়নি ক্রিকেট ভক্তদের। বিশেষ করে তার সেই চিরচেনা ও বিখ্যাত বোলিং অ্যাকশনের কারণে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, মক্কায় পবিত্র হজ পালনের সময় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের (রমি আল-জামারাত) ধর্মীয় আচার পালন করছেন এই ক্রিকেট তারকা।
আধ্যাত্মিক আবহেও ক্রিকেটের ‘ভূত’!
পবিত্র হজের গভীর আধ্যাত্মিক আবহের মধ্যেও ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে এক চিরপরিচিত দৃশ্য। শয়তানের উদ্দেশে পাথর ছুড়ে মারার ঠিক আগের মুহূর্তে আকরামের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও নড়াচড়া যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার সেই আইকনিক বোলিং অ্যাকশনের রূপ নেয়, যা একসময় বিশ্ব কাঁপানো ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরাত।
পাথর ছুড়তে যাওয়ার সেই সংক্ষিপ্ত রান-আপ, ওপরের দিকে তোলা নন-বোলিং আর্ম এবং কবজির মোচড়ে নিখুঁত বল রিলিজের সেই ট্রেডমার্ক ভঙ্গি—সবকিছুই হুবহু মিলে গেছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই বাঁহাতি পেসারের বোলিং অ্যাকশনের সাথে। শুধু তা-ই নয়, নিখুঁতভাবে পাথরটি ছুড়ে মারার পর নিজের চিরপরিচিত ভঙ্গিতে উদযাপন করতেও ভোলেননি ওয়াসিম আকরাম।
‘নিখুঁত ইয়র্কারে শয়তান বোল্ড!’
পবিত্র ও গম্ভীর এক ধর্মীয় পরিবেশের মধ্যে এই দৃশ্যটি সেখানে উপস্থিত সবার মাঝেই মৃদু হাসির খোরাক জোগায়। আকরামের পাশে থাকা এক বন্ধু তো রসিকতা করে বলেই বসেন, হজের মতো পবিত্র স্থানে এসেও আকরামের ভেতর থেকে বোলিংয়ের ভূত নামেনি!
ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেন ও ক্রিকেট ভক্তরাও মেতে উঠেছেন নানামুখী রসিকতায়। অনেক ভক্ত অনলাইনে মজা করে লিখেছেন, ওয়াসিম আকরাম স্বয়ং শয়তানের সামনেও নিজের বোলিংয়ের জাদু দেখাচ্ছেন এবং নিখুঁত এক ইয়র্কারে শয়তানকে বোল্ড করে দিয়েছেন!
সাথে আছেন মিসবাহ ও ফখর
জানা গেছে, হজ পালনের এই সফরে ওয়াসিম আকরামের সাথে রয়েছেন পাকিস্তানের আরেক সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ফখর-ই-আলম। মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে আকরাম তার সাবেক সতীর্থ ও কিংবদন্তি ওপেনার সাঈদ আনোয়ারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
ভক্তদের মাঝে নস্টালজিয়া
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই ছোট ভিডিও ক্লিপটি কেবল একটি সাধারণ ভাইরাল মুহূর্তের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে এক পুরোনো নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতা জাগিয়ে তুলেছে। এই সেই অনন্য বোলিং অ্যাকশন, যা বিশ্ব ক্রিকেটে ফাস্ট বোলিংয়ের একটি আস্ত প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
এই অসাধারণ অ্যাকশন এবং রিভার্স সুইংয়ের ওপর অবিশ্বাস্য দক্ষতার ওপর ভর করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯১৬টি উইকেটের এক বিশাল পাহাড় গড়েছিলেন ওয়াসিম আকরাম।
ক্রিকেটের ইতিহাসে রিভার্স সুইংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত তাকে ‘সুলতান অব সুইং’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি এবং ওয়াকার ইউনুস মিলে বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক বোলিং জুটি গড়ে তুলেছিলেন।