চতুর্থবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে অবশেষে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয়ের দেখা পেলো মিশর। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে মোট ৮টি ম্যাচ খেলেও কোনো জয়ের মুখ দেখেনি ফারাওরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেই অধরা জয়ের ইতিহাস গড়ল মোহাম্মদ সালাহরা।
সোমবার (২২ জুন) কানাডার বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে মিশর। আসরের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর এটি মিশরের প্রথম জয়। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে ইরানের সাথে ২-২ গোলে ড্র করা নিউজিল্যান্ড এগিয়ে গিয়েও হার এড়াতে পারেনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় খেলার ১৫ মিনিটেই লিড নেয় কিউইরা। মাইকেল পেইনের চমৎকার এক কর্নার কিক থেকে বক্সের ভেতরে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডে গোল করেন ফিন সারম্যান। প্রথমার্ধে এই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নিউজিল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য এক মিশরকে দেখে গ্যালারি। একের পর এক আক্রমণে কিউই রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে তারা।
৫৮ মিনিট (১-১): ডান দিক থেকে মোহামেদ হানির চমৎকার ক্রস বক্সের মাঝখানে ফাঁকায় পেয়ে যান মোহাম্মদ জিকো। দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে মিশরকে সমতায় ফেরান তিনি।
৬৭ মিনিট (২-১): বক্সের ডান প্রান্তে বল পেয়ে জিকোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে নিজের জন্য শট নেওয়ার জায়গা তৈরি করেন অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে নিচের বাঁ কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন এই তারকা।
৮২ মিনিট (৩-১): ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান সালাহ। মাঠে বদলি হিসেবে নামা ডেভিড ত্রেজেগে নিজের মাত্র তৃতীয় টাচেই দারুণ এক হেডে নিউজিল্যান্ডের জালে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
বাকি সময়ে নিউজিল্যান্ড ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও মিশরের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফলে ৩-১ গোলের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিশর।
এদিকে ‘জি’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা মিশরের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২৭ জুন, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইরান। একই দিনে গ্রুপ পর্বের অন্য ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।