বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-এর শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সাথে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হলেও ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো প্যারাগুয়ে। তবে চূড়ান্ত ক্ষণের জন্য তাদের অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে চোখ রাখতে হবে।
৪৮ দলের এই বিশাল বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও পরের রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট পাবে। আর এই সমীকরণের কারণেই পুরো ম্যাচ জুড়ে দুই দলই রক্ষণাত্মক ও অতিরিক্ত সতর্ক ফুটবল খেলেছে। এর আগে দুই দলই নিজেদের ম্যাচে তুরস্ককে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
এই ম্যাচে যে দল জিতত, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পর এই গ্রুপের রানার্সআপ হতে পারত। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে ড্র করেও দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখে সকারুরা। ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থাকলেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুবিধাজনক অবস্থানে আছে প্যারাগুয়ে।
এই অর্জনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে পা রাখলো, এর আগে ২০০৬ ও ২০২২ সালেও তারা শেষ ষোলোতে উঠেছিল। আগামী ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলাররাই আক্রমণে কিছুটা আধিপত্য দেখায়। কিন্তু প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে জ্যাকসন আরভিনের দারুণ শট রুখে দেন এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ক্রিস্টিয়ান ভলপাতোর গোল করার প্রচেষ্টাও নসাৎ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখলেও কোনো দলই পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ৯০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার জর্ডান বসের একটি শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মৌরিসিওর একটি দুর্বল শট অনায়াসে তালুবন্দী করেন ডাচ গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ তাঁর মূল একাদশে বড়সড় পরিবর্তন আনেন। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে মোট ৬টি পরিবর্তন এনে তিনি মাঠে নামান ১৮ বছর বয়সী তরুণ ডিফেন্ডার লুকাস হ্যারিংটনকে। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব কলোরাডো র্যাপিডসে খেলা এই তরুণ ডিফেন্ডার বিশ্বকাপে মাঠে নামার সাথে সাথেই এক অনন্য কীর্তি গড়েন। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেকের রেকর্ডধারী।