দুর্দান্ত এক জয়ে ২-১ গোলে ঘানাকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ক্রোয়েশিয়া। একইসাথে তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ।
অন্যদিকে, হেরে তিন নম্বরে নেমে গেছে ঘানা। নকআউটে তারাও চলে গেছে। ঘানা তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে এবং সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে।
‘এল’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে তারা। আর তিন ম্যাচেই হেরে আগেভাগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পানামা।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রথমার্ধেই ফল পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচের ৩১তম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া পেতার সুচিচের নিচু ও জোরালো শট জালে জড়ায়। চলতি বিশ্বকাপে এটাই ছিল ঘানার হজম করা প্রথম গোল।
এই গোলেই বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। তখন লাইভ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষেও উঠে যায় তারা।
একই সময়ে পানামার বিপক্ষে জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলে আবার গ্রুপের শীর্ষস্থান ফিরে পায় ইংলিশরা, আর দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসে ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে ঘানা। আর্নেস্ট নুয়ামাহর ভাসানো ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতরে লুকাসেন ভলিতে বল জালে পাঠান।
প্রথমে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললে গোল নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। পরে দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি মনিটরে দেখে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তাতে ১-১ সমতায় ফিরেই লাইভ পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে যায় ঘানা, আর তিনে নেমে যায় ক্রোয়েশিয়া।
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি ক্রোয়াটরা। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে লুকা মদ্রিচের কর্নার থেকে নিকোলা ভ্লাসিচ হেডে জালে বল জড়িয়ে আবারও এগিয়ে দেন দলকে।
২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যেতেই পয়েন্ট তালিকায় ফের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে এই স্কোরলাইন নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
নাটকীয় এই জয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়া, আর ঘানাকে শুরুতে অপেক্ষায় রেখেছিল আয়োজকরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিফা নিশ্চিত করে তৃতীয় দল হিসেবে এই গ্রুপ থেকে ঘানা নিশ্চিত করেছে পরের রাউন্ড।
গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া ক্রোয়েশিয়ার শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা পর্তুগাল। আর ঘানা খেলবে ওই দুই দলের মধ্যে যে দলটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, তাদের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি ক্রোয়েশিয়ার। ২০১৮ সালের রানার্সআপ ও গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করে। পরের ম্যাচে পানামার সঙ্গে কোনোমতে ১-০ গোলে জয় পায়। শেষ ম্যাচে ঘানাকে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্টে ক্রোয়েশিয়ার মোট ৬ পয়েন্ট।
অন্যদিকে ঘানা পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর ইংল্যান্ডকে রুখে দেয় দ্বিতীয় ম্যাচে। দুই ম্যাচেই কোনো গোল হজম করেনি তারা।
শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া তাদের রক্ষণ দুইবার ভেঙে ম্যাচে জয় পায়। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে তৃতীয় স্থানে।