রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ৩ : ২ কেপ ভার্দে (ফুল টাইম)

রেফারির শেষ বাঁশিতে কাঁদলো কেপ ভার্দে। অবশেষে ‘যুদ্ধ’টা শেষ হলো, আর সেই যুদ্ধে জয়ী আর্জেন্টিনা।

কেপ ভার্দেকে ৩–২ গোলে হারিয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা।

৩–২ গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা 

১১১ মিনিটে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে আর্জেন্টিনা!

বাঁ দিক থেকে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার নিখুঁতভাবে ভেসে আসে বক্সে। সবার ওপরে উঠে শক্তিশালী হেড করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, বল জড়িয়ে যায় জালে।

তবে গোলটি শেষ পর্যন্ত রোমেরোর নাম থাকছে না। কারণ বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে জালে ঢুকেছে। ফলে এটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে যোগ হলো।

অবিশ্বাস্য গোলে সমতা ফেরালো কেপ ভার্দে 

আর্জেন্টিনা ২ : ২ কেপ ভার্দে

অবিশ্বাস্য! সত্যিই অবিশ্বাস্য!

বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে সিডনি কাবরাল ভেতরের দিকে কাট করেন। এরপর ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট নেন, আর বল গিয়ে জড়ায় দূরের ওপরের পোস্টে।

এর চেয়ে নিখুঁত শট আর হতে পারে না!

গোল করার পর উচ্ছ্বাসে ছুটে যান কাবরাল। সোজা গ্যালারিতে লাফ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করেন। তার মুখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল, এমন মুহূর্ত যেন তিনিও বিশ্বাস করতে পারছেন না।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে ২-১ এ এগিয়ে আর্জেন্টিনা

৯৩ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোল

আর্জেন্টিনা ২ : ১ কেপ ভার্দে

৯৩ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।

সেই কর্নার থেকেই বিপদ ডেকে আনে আর্জেন্টিনা। প্রথম পোস্টে একজনের ছোঁয়ায় বল চলে যায় দূরের পোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কাছে।

একবার বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি এমন ভঙ্গি করেন যেন দূরের কোণে শট নেবেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে বলটি জোরালো বাঁকানো শটে নিজের দিকের ওপরের কোণেই পাঠিয়ে দেন। আবারও এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতা ফেরাল কেপ ভার্দে

আর্জেন্টিনা ১ : ১ কেপ ভার্দে

৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেস ডান দিক থেকে বল বাড়িয়ে দেন লারোস দুয়ার্তের কাছে। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে তিনি ফাঁকা জায়গায় বল পান।

তাকে ঠেকাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। কিন্তু দুয়ার্তে দুর্দান্ত এক শটে বল পাঠিয়ে দেন মার্তিনেসের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে। এরপর বল চলে যায় এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে জালে।

অবিশ্বাস্য দৃশ্য! কেপ ভার্দে সমতায় ফিরেছে, আর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে উল্লাসের বিস্ফোরণ।

মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে বিরতিতে আর্জেন্টিনা

মেসির গোলে প্রথমার্ধ শেষ আর্জেন্টিনার 

আর্জেন্টিনা ১ : ০ কেপ ভার্দে (হাফ টাইম)

২৯ মিনিটে রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত এক লম্বা পাস বাড়ান লিসান্দ্রো মার্তিনেস। বলটি গিয়ে পড়ে লিওনেল মেসির দৌড়ের পথে, আর ততক্ষণে তিনি ডিফেন্ডারের থেকে অর্ধ গজ এগিয়ে।

প্রথম স্পর্শেই বলকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনেন মেসি। এরপর দ্বিতীয় ছোঁয়ায় গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে বল তুলে দেন জালের ছাদে।

এ পর্যন্ত কেপ ভার্দে প্রায় নিখুঁত ফুটবলই খেলছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসি থাকেন, তখন এক মুহূর্তের জাদুই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এটি বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে মেসির ২০তম গোল। আর চলতি বিশ্বকাপে ৭ম।

গোল ছাড়াই হাইড্রেশন ব্রেকে আর্জেন্টিনা 

গোল ছাড়াই হাইড্রেশন ব্রেকে গেল আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে। ম্যাচের প্রথম ২৬ মিনিট আর্জেন্টিনার দাপট থাকলেও, খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মেসির ফ্রি–কিক সরাসরি জমা পড়েছে গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার হাতে।

অপ্রতিরোধ্য আর্জেন্টিনার সামনে অপরাজেয় কেপ ভার্দে 

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য ছিল। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে নিয়ে দাপটের সঙ্গে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিততে পেরেছে মাত্র তিনটি দল—আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও ফ্রান্স।

আর্জেন্টিনা এই শতাব্দীতে শিরোপাধারী তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে পৌঁছেছে। এর আগে ২০০৬ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল।

অন্য দিকে চমক জাগানো কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। এরপর উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করে গ্রুপ পর্ব শেষ করে তারা।

১৯৯৮ সালে চিলির পর একটি ম্যাচও না জিতেই শেষ ষোলোতে ওঠা প্রথম দল কেপ ভার্দে।

আরও একটি দিক থেকে তাদের অর্জন উল্লেখযোগ্য। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে গ্রুপ পর্বে তারা মাত্র দুটি গোল হজম করেছে, যা ২০০৬ সালে অ্যাঙ্গোলার পর কোনো অভিষিক্ত দলের সর্বনিম্ন গোল হজমের রেকর্ড।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ:

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো দি পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি ও লাওতারো মার্তিনেজ।