আর্লিংটনে কাল রাতে ফুটবল ভক্তরা দেখল এক চরম নাটকীয়তা। ফরাসি ঝড়ের সামনে আর টিকে থাকতে পারল না মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ফ্রান্স।
ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের জোড়া গোলই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় মরক্কানদের।
মরক্কোর এই বিদায়ের নেপথ্যে ফুটবল বিশ্লেষকরা ৫টি বড় কারণ খুঁজে পেয়েছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন থামল মরক্কোর জয়রথ:
১. এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসের সুযোগ হাতছাড়া
ম্যাচের ২৫ মিনিটে মরক্কোর নুসাইর মাজরাউই বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মরক্কোর সামনে এটি ছিল ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করার সবচেয়ে মোক্ষম সুযোগ। কিন্তু এই মানসিক স্বস্তিকে কাজে লাগিয়ে ফ্রেঞ্চ রক্ষণভাগে আক্রমণ শানানোর বদলে উল্টো অতি-রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মরক্কো, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
২. রণকৌশলে আগ্রাসনের অভাব
চোটের কারণে মরক্কো দলে ছিলেন না চাদি রিয়াদ ও ইসমাইল সাইবারির মতো দলের প্রধান দুই তারকা। ফলে শুরু থেকেই মরক্কোর খেলায় জেতার চেয়ে 'ম্যাচ ড্র' করার মানসিকতা বেশি স্পষ্ট ছিল।
প্রথমার্ধে কেবল বল নিজেদের দখলে রেখে সময় পার করার চেষ্টা করেছে তারা, বিপজ্জনক কোনো আক্রমণ সৃষ্টি করতে পারেনি। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ হাইড্রেশন ব্রেকের পর ফরাসিদের ওপর কাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় মরক্কোর ফরোয়ার্ডরা।
৩. ডিফেন্সের মারাত্মক ভুল
মাজরাউইয়ের পেনাল্টি ফাউল বাদ দিলেও, ফ্রান্সের দুটি গোলের সময়ই মরক্কোর রক্ষণভাগের মার্কিং ছিল খুবই দুর্বল। বিশেষ করে উসমান দেম্বেলে যখন গোল করতে এগিয়ে আসছিলেন, মরক্কোর ডিফেন্ডাররা তাকে বক্সের সামনে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেয়।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের শেষ আটে এমন ঢিলেঢালা ডিফেন্ডিংয়ের চড়া মূল্যই দিতে হয়েছে দলটিকে।
৪. ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সের কার্যকারিতা
শেষ পর্যন্ত দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে আক্রমণভাগের দক্ষতা ও ফিনিশিং। ম্যাচের ৬০ মিনিটে এমবাপ্পের দুর্দান্ত কার্লিং শট এবং ৬৬ মিনিটে দেম্বেলের দূরপাল্লার বুলেট গতির শট রুখতে পারেনি মরক্কোর গোলরক্ষক।
অন্যদিকে মরক্কোও সুযোগ পেয়েছিল—হাকিমি ও এল আয়নাউইর হেড কিংবা উনাহির শট গোলপোস্টে কাঁপন ধরালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে তা জালের দেখা পায়নি।
৫. সাইড বেঞ্চের ব্যর্থতা ও অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স
ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে বেঞ্চ থেকে সোফিয়ান আমরাবাত ও সুফিয়ান রাহিমিকে মাঠে নামানো হলেও তারা খেলায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। পরবর্তীতে সালাহ-এদ্দিন ও দিয়াজকে তুলে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়, তাও ছিল নিষ্ফলা।
তাছাড়া ব্রাহিম দিয়াজ ও ইলিয়াছ বেন সেঘির (বুয়াদ্দি) মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ছিল আশানুরূপ মানের চেয়ে অনেক নিচে।