বেলজিয়ামকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তির হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। মাঠের লড়াইয়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ ছড়ালেও শেষ হাসি হেসেছে ২০১০-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই। 

স্পেনের হয়ে গোল দুটি করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো; আর বেলজিয়ামের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে চার্লস ডি কেটেলারার পা থেকে।

রুইজের চমকে স্পেনের উড়ন্ত শুরু

আজকের ম্যাচে চোটাক্রান্ত পেদ্রির জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পান ফাবিয়ান রুইজ। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে একদমই সময় নেননি এই মিডফিল্ডার। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে স্পেনকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। 

ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দানি ওলমোর জোরালো শট বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ফিরিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। 

রিবাউন্ডে আসা বল নিখুঁত শটে জালে জড়ান রুইজ (যদিও বলটি বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কিছুটা দিক পরিবর্তন করেছিল)।

স্পেনের 'অভেদ্য দুর্গ' ভাঙলেন কেটেলারা

পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। স্পেনের যে রক্ষণভাগ চলতি টুর্নামেন্টে এতদিন কোনো গোলই হজম করেনি, ম্যাচের ৪১তম মিনিটে সেই ডিফেন্সলাইন ভেঙে ফেলে রেড ডেভিলরা। 

চমৎকার এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামকে ১-১ সমতায় ফেরান চার্লস ডি কেটেলারা। এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

কোর্তোয়ার ইনজুরি ও মেরিনোর অন্তিম মুহূর্তের ম্যাজিক

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের প্রধান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে। তার জায়গায় পোস্টের নিচে দাঁড়ান তরুণ সেনে ল্যামেন্স।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই বেলজিয়ামের স্তব্ধ করে দেয় স্পেন। ৮৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডি-বক্সের ভেতর এক জটলা থেকে বল পান মিকেল মেরিনো। 

ঠাণ্ডা মাথায় ল্যামেন্সকে পরাস্ত করে বল জালের ঠিক মাঝখান দিয়ে পাঠান তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচ শুরু, একাদশে রয়েছেন যারা

স্পেনের শুরুর একাদশ

উনাই সিমন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারসাবাল।

বেলজিয়ামের শুরুর একাদশ

থিবো কোর্তোয়া (গোলরক্ষক), ম্যাক্সিম ডি ক্রুইপার, ব্রান্ডন মাশেল, নাথান এনগ, টিমোথি কাস্তানিয়ে, নিকোলাস রাসকিন, ইউরি টিলেমান্স, জেরেমি ডোকু, কেভিন ডি ব্রুইনা, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার, চার্লস ডি কেটেলারা।