উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার ঘরের মাঠ স্তাদিও অলিম্পিকোতে গোলবন্যার এক স্মরণীয় রাত দেখল ফুটবল বিশ্ব। ৮২ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ আট মিনিটের ঝড়ো ফুটবলে রোমাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সাবেক দল রোমার মাঠে ফিরে এই অলৌকিক জয়ের সাক্ষী হলেন রিয়াল কোচ জোসে মরিনিয়ো।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রোমা। ২০ মিনিটে মার্তেন দে রুনের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দর্শনীয় শটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর রোমা ব্যবধান বাড়ানোর আরও সুযোগ পেলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দক্ষতায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
খেলার ২৫ মিনিটে রোমা ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিয়ালকে সমতায় ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে। এটি ছিল ফরাসি ফরোয়ার্ডের চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে মাত্র ২৭ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সে শততম ম্যাচ খেলার নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ৭২তম গোল করে রিয়ালের কিংবদন্তি রাউল গনজালেসকে টপকে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষ পাঁচে উঠে আসেন এমবাপ্পে।
বিরতির পর জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনির শিষ্যরা আরও আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করে। ম্যাচের বদলি খেলোয়াড় রদ্রিগো মোরা ও ডনিয়েল মালেনের চমৎকার সমন্বয়ে রোমা দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায়। এর মাত্র ছয় মিনিট পর ভিএআরের (VAR) সহায়তায় মালেন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় রোমা।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের আসল নাটকীয়তা শুরু হয় শেষ ১০ মিনিটে। দুই সেট পিস থেকে দৃশ্যপট বদলে দেয় লস ব্লাঙ্কোসরা। প্রথমে কার্লোস এসপি কর্নার থেকে পাওয়া বলে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন। ঠিক দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে ৩-৩ সমতা ফেরান ব্রাজিলীয় তরুণ এন্ড্রিক।
খেলার ৯০তম মিনিটে রোমার সাবেক ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার রিয়ালের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে পাঠালে স্তব্ধ হয়ে যায় অলিম্পিকোর গ্যালারি। এই জয়ে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট দাঁড়াল ছয়ে, আর রোমার পয়েন্ট এক। দীর্ঘ সাত বছর পর ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ খেলতে নেমে রোমা সমর্থকদের জন্য রাতটি রূপ নেয় চরম হতাশায়।