মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ, রাশিয়ায় ফিরলো ল্যান্ডফোন!

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪০ এএম

নিয়মিত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরগুলোতে হঠাৎ করেই ল্যান্ডফোনের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে বাধ্য হয়ে প্রাচীন প্রযুক্তিতে ভরসা খুঁজছে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সরকারি পর্যায় থেকে ল্যান্ডফোন ক্রয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যম 'ভেদোমস্তি'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ রুবল ল্যান্ডফোন কেনায় খরচ করা হয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

মূলত ২০২৫ সালের মে মাস থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সার্ভিস বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। ক্রেমলিনের দাবি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও স্বয়ংক্রিয় জিপিএস নেভিগেশন ও নির্ধারিত রুটে ড্রোন চালানো সম্ভব। ফলে যোগাযোগের এই বৈশ্বিক মাধ্যমটি বন্ধ রেখে ড্রোন আক্রমণ ঠেকানোর যুক্তি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে রুশ নাগরিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনলাইন ব্যাংকিং, রাইড শেয়ারিং, ডিজিটাল ফুড ডেলিভারি সার্ভিস এবং ম্যাপ অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে তারা প্রতিদিন নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিটি পরিবারে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের পাশাপাশি একটি করে ল্যান্ডফোন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন রুশ টেলিযোগাযোগ সংস্থা রোস্তেলেকমের শীর্ষ কর্মকর্তা। এমনকি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়েও প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা আদান-প্রদানে এখনও ল্যান্ডফোনই ব্যবহার হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনে গড়ে ১২ দশমিক ২টি ল্যান্ডফোন রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় অনুমান করছে যে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি ছন্দের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে এই হার কমে ৮ থেকে ৮.৫ শতাংশে নামতে পারে।

সূত্র: রুশ সংবাদমাধ্যম 'ভেদোমস্তি' 

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত