টাইব্রেকারের প্রথম শটে ব্যর্থ লিওনেল মেসি। তবে সফল ছিলেন তার সতীর্থরা। অন্যদিকে সফল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিন্তু তার সতীর্থরা ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে তাদেরকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ফ্রান্স। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ছিল।
আগামী মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সেমিফাইনালে ফ্রান্স স্পেনের মুখোমুখি হবে। স্পেন ২-১ গোলে জার্মানিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে।
ফ্রান্সের হয়ে দেম্বেলে, ফোপানা, কোউন্দে, বার্কোলো ও হার্নান্দেজ গোল করেন। পর্তুগালের হয়ে রোনালদো গোলের সূচনা করেন। কিন্তু তৃতীয় শট নেওয়া হোয়াও ফেলিক্স গোল করতে ব্যর্থ হন। তার এই ব্যর্থতার কারণে হয়তো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি হয়ে গেল।
২০২০ সালের ইউরোর টাইব্রেকারে ফ্রান্সের মতো এমন সাফল্য দেখিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতে গোল করেছিল তারা। আর তাতেই বিদায় হয়েছিল ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এবার অবশ্য এমবাপ্পে শট নেওয়ার সুযোগ পাননি। আগেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন দলীয় কোচ।
পর্তুগাল-ফ্রান্স ম্যাচটি ফুটবল ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। ম্যাচটি শুরু হয়েছিল ধীর গতিতে এবং উভয় দল আগের ম্যাচগুলোর মতো ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল। দুই দলই একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে উভয় দল গোলের যেমন সুযোগ পেয়েছে তেমনি পেয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে ফ্রান্স সেই ব্যর্থতা নিয়ে সেমিফাইনালে খেলতে নামবে। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে খেলবে অথচ পুরো টুর্নামেন্টে তারা একটা স্বাভাবিক গোল করতে পারেনি। আগের চার ম্যাচে তারা দুটো আত্মঘাতি গোল ও একটা পেনাল্টিতে গোল করেছে।
ফ্রান্স যেমন গোল করাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে, তেমনি সাফল্যের গান গেয়ে চলেছেন দলটির গোলরক্ষক মাইক মাইগনান। শুক্রবার রাতে দুইবার তিনি দলকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন।
উভয় দল সাবধানতার সঙ্গে খেলার কৌশল নেওয়ায় ম্যাচে প্রথম গোলমুখে শট দেখার জন্য দর্শকদের ১৬ মিনিট অপেক্ষায় থাকতে হয়। ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট হার্নান্দেজের গায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দল একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে।
ম্যাচে সহজ এক সুযোগ নষ্ট করেন রোনালদো।অতিরিক্ত সময়ের খেলায় ফ্রান্সিসকো কনসেইকাও দারুণ এক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন রোনালদোকে। কিন্তু তিনি সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে খেলা টাইব্রেকারে গড়ায় এবং জয় নিয়ে ফ্রান্স সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়।