বর্তমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত। প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ দুর্বল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু শুরুতেই অস্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তারা অবাঞ্ছিত রেকর্ডও গড়েছে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে সূর্যকুমার যাদব আলো ছড়ান। তাতে ৯ উইকেটে ১৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ করেছে শিরোপাধারীরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে থেকে আলোচনায় ছিলেন অভিষেক শর্মা। এই সংস্করণের শীর্ষ ব্যাটার স্বভাবজাত ব্যাটিংয়ে সবাইকে চমকে দেবেন। কিন্তু তিনি চমকে দিতে পারেননি, চমক দেখাল যুক্তরাষ্ট্র। গোল্ডেন ডাক মেরেছেন ভারতের এই প্রতিভাবান মারকুটে ব্যাটার।
শুধু অভিষেক নয়, পাওয়ার প্লেতে আরও তিন উইকেট নিয়ে ভারতকে চেপে ধরে যুক্তরাষ্ট্র। এই তিন উইকেট পড়ে ষষ্ঠ ওভারে। পাওয়ার প্লেতে তাদের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৪৬। সব টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ষষ্ঠবার ও বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার পাওয়ার প্লেতে চার উইকেট হারায় ভারত। এছাড়া চতুর্থবার কোনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচের পাওয়ার প্লেতে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের চার উইকেট পড়ল।
ইশান কিষাণের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন অভিষেক। প্রথম ছয় বল তিনি স্ট্রাইকে যেতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যাট করার সুযোগ পেলেন। কিন্তু ডিপ কভারে সোজা সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তিকে বল তুলে দিয়ে মুম্বাইয়ের গ্যালারি নিস্তব্ধ করে দিলেন। আলী খানের বলে গোল্ডেন ডাক মারলেন ভারতীয় ওপেনার।
পরের ওভারে তিলক ভার্মা এক ছয় ও দুই চারে ১৬ রান তুলে স্বস্তি ফেরান। পঞ্চম ওভারে কিষাণ শেষ দুই বলে চার-ছয় মেরে স্কোরবোর্ডে ৪৪ রান জমা করেন।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে স্কোর পঞ্চাশ ছাড়াতে চেয়েছিল ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় বলে শ্যাডলি ফন শ্যালকভিক ফেরান কিষাণকে। মিড অফে বল উড়িয়ে মেরেছিলেন। কিন্তু অভিষেকের মতো সহজেই তার শট ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ে। মিলিন্দ কুমার ক্যাচ নেন। ১৬ বলে করেন ২০ রান।
দুই বল পর ফন শ্যালকভিক টানা দুটি উইকেট নেন। পঞ্চম বলে তিলককে ২৫ রানে অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলের ক্যাচ বানান। শেষ বলে সৌরভ নেত্রাভালকারের ক্যাচ হয়ে গোল্ডেন ডাক মারেন শিবম দুবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে এক ওভারে তিন উইকেট পান ফন শ্যালকভিক। ২০২২ সালে জিলংয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন আরব আমিরাতের কার্তিক মেয়াপ্পান।
সূর্যকুমার ও রিংকু সিং তারপর প্রতিরোধ গড়েন। ১২তম ওভারে এই জুটি ভেঙে দেন মোহাম্মদ মহসিন। রিংকু ৬ রান করে মিলিন্দের ক্যাচ হন। পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়াকে (৫) সাইতেজা মুক্কামাল্লার ক্যাচ বানান হারমিত সিং। ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে এক অবাঞ্ছিত রেকর্ডে নাম লেখায় ভারত। টি-টোয়েন্টিতে কোনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় তারা।
এমন বিপর্যয় থেকে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন সূর্য। তাকে সঙ্গ দেন অক্ষর প্যাটেল। ২৪ বলে ৪১ রানের জুটি গড়ে থামেন অক্ষর (১৪)। ভারত আরও দুটি উইকেট হারালেও অধিনায়কের ব্যাটে স্বস্তিতে ফেরে ভারত। ১৮তম ওভারে চার মেরে ৩৬ বলে ফিফটি করেন সূর্য। শেষ দুই ওভারে তিন চার ও তিন ছয়ে ৩৩ রান তোলেন তিনি। শেষ ওভারেই এসেছে ২১ রান। ৪৯ বলে ১০ চার ও ৪ ছয়ে ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সূর্য। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তার। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৮ রান করে এই তালিকায় শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল।
নেত্রাভালকার ৪ ওভারে সর্বোচ্চ ৬৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে খরুচে বোলিং। ২০০৭ সালে সনাথ জয়াসুরিয়ার ৬৪ রানকে পেছনে ফেললেন আমেরিকার বোলার। ফন শ্যালকভিক ৪ ওভারে ২৫ রান খরচায় পান চার উইকেট।