বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও যে বড় স্বপ্ন দেখেন রশিদ

দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখেন রশিদ খান। ‘সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের চেয়েও এটি অনেক বড় কিছু,’ গতকাল (সোমবার) তিনি বললেন। ‘আমার জন্য ও আমার দলের জন্য, এমনকি প্রত্যেকের জন্য।’

আফগানিস্তান বিশ্ব ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে নজর কেড়ে চলেছে। ২০০৯ সালে ওয়ানডে মর্যাদা, তারপর ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদা পায় তারা। ২০১৫ সালে আউটফিল্ডে শাপুর জাদরানের সেই বাধভাঙা উল্লাস, ২০১৬ সালে ক্রিস গেইলের সঙ্গে মোহাম্মদ শাহজাদের চ্যাম্পিয়ন নাচ- এসব স্মৃতি আজীবনের। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে নিজেদের অভাবনীয় উন্নতির প্রমাণ দিয়েছিল।

কিন্তু এত এত সাফল্যের মাঝে আক্ষেপ হয়ে আছে নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলতে না পারা। যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে কখনো আন্তর্জাতিক দল তাদের মাটিতে পা রাখেনি। রশিদ আশা করছেন, এর সমাধান হবে।

তিনি বললেন, ‘আমরা আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছি, সব মিডিয়া,  সবাই দেখবে আফগানিস্তানে কীভাবে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাচ্ছে এবং তারা কীভাবে ক্রিকেট উপভোগ করছে। এটা একটা স্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু, নিজ দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা।’

আফগানিস্তান দেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হোম ম্যাচ খেলে থাকে। গত মাসে সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্বাগত জানায় তারা। তাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগ খেলে সুনাম কুড়িয়েছে। রশিদ আইপিএল, পিএসএল ও এসএ২০ তে চ্যাম্পিয়ন। এখন পর্যন্ত যত সমর্থন পেয়েছেন, তাতে আপ্লুত তিনি।

রশিদ বললেন, ‘আমরা যখন এখানে আইপিএল খেলি, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলি, আমরা দেখি তাদের (ভারতের) আন্তর্জাতিক তারকাদের কীভাবে সমর্থন দেয় স্থানীয় ভক্তরা এবং কতটা ভালোবাসা দেয়। আমি বলছি না যে আমরা এখানে ভালোবাসা পাই না, কিন্তু যখন এখানে খেলি, অনেক বেশি ভালোবাসা ও সমর্থন পাই, বিশেষ করে আইপিএলে এবং বিশ্বকাপ খেলার সময়ও আমরা অনেক বেশি সমর্থন পাই। মনেই হয় না আফগানিস্তান থেকে দূরে আছি।’

কিন্তু আক্ষেপ থেকেই যায়, রশিদ বললেন, ‘কিন্তু যখন আপনি নিজ দেশে খেলবেন, তখন ভিন্ন অনুভূতি হবে এবং বিশ্ব আফগানিস্তানকে দেখবে, তারা বুঝবে কত সুন্দর একটি দেশ। আশা করি আমরা একদিন সেটা সম্ভব করব যে আন্তর্জাতিক দল আসবে এবং সেখানে ক্রিকেট খেলবে।’