১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে মন্থর ব্যাটিং আর নিয়মিত উইকেট হারিয়ে এক সময় হারের শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারীর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।
এই জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। কিউইদের বিপক্ষে এর আগে টাইগারদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি ছিল মাত্র ১৩৫ রান। উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (২১৫ রান, ২০১৮)।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান (১৭) ও তানজিদ হাসান তামিম (২০) মন্থর ব্যাটিং করে ফেরেন। অধিনায়ক লিটন দাসও ২১ রানের বেশি করতে পারেননি। ১০.১ ওভারে মাত্র ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, তখন হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তারা। ইমন ১৪ বলে ২৮ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শামীম পাটোয়ারী।
পঞ্চম উইকেটে শামীমকে নিয়ে হৃদয়ের গড়া ১৯ বলে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটিই ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় কিউইদের হাত থেকে। হৃদয়ের অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ২৯ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায়। অন্যদিকে শামীম পাটোয়ারী মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দুজনেই ৫১ রান করে করেন। এক সময় মনে হচ্ছিল স্কোর ২০০ ছাড়িয়ে যাবে, কিন্তু মাঝপথে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হয় কিউইরা। বিশেষ করে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। শরিফুল ইসলাম ও অন্য বোলাররা ১টি করে উইকেট পান।
বাংলাদেশ এই বিশাল জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।