ঘরের মাঠে সুযোগ পেয়েও অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ হাতছাড়া করলো টাইগারবাহিনী। মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অজি ওপেনার কুপার কনোলির অতিমানবীয় ১৪৯ রানের ইনিংসে চড়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো অস্ট্রেলিয়া। যারা একসময় দেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধসের পর মাইকেল বেভান থেকে হালের গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের মতো তারকারা একাই ম্যাচ বের করে নিয়েছেন, তাদের আবারও মনে করিয়ে দিলেন কনোলি, অস্ট্রেলিয়া যেই একাদশ নিয়েই খেলুক, কখনোই 'বি' দল নয়।
তবে ব্যক্তিগত দেড়শো এবং দলের জয় থেকে মাত্র চার রান দূরে থাকতে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন এই বাঁহাতি ওপেনার। তখন জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন মাত্র ৪ রান। গ্যালারি আর টেলিভিশনের সামনে বসা বাংলাদেশি সমর্থকদের হৃদস্পন্দন যেন বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে কি শেষ মুহূর্তে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাবেন ফিজ? সেই আশা আর পূরণ হয়নি। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন অ্যাডাম জাম্পা ও রাইলি মেরেডিথ।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের চতুর্থ বলেই ফিরে যান সৌম্য সরকার। ২০ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসানও। দলীয় ৬১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
সেই ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। যদিও শান্ত ২৪ রান করে ফিরলেও লিটন এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়ার কাজটা করেন নিখুঁতভাবে। উইকেটের চারপাশে সাবলীল ব্যাটিং করে ৭৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন তিনি।
তবে বাংলাদেশের ইনিংসের প্রাণ ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। মিডল অর্ডারে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ৮৮ বলে ৮৩ রানের দারুণ ইনিংসে ছিল ৮টি চার। একসময় মনে হচ্ছিল শতকের দিকেই এগোচ্ছেন তিনি। কিন্তু ৪৬তম ওভারে বেন ডোয়ারশুইসের বলে আউট হয়ে থামেন হৃদয়।
শেষ দিকে ঝড় তোলেন মোসাদ্দেক হোসেন। মাত্র ৫১ বলে ৫৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহকে লড়াকু অবস্থানে নিয়ে যান তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও একটি ছক্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ৪০ রানের মধ্যে ফিরে যান জশ ইংলিস, ম্যাট রেনশ ও অ্যালেক্স ক্যারি। ১১ ওভারের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
কিন্তু একপ্রান্তে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যান কুপার কনোলি। ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়ে পরে আক্রমণাত্মক রূপ নেন তিনি। মার্নাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন ও অলিভার পিকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরান অস্ট্রেলিয়াকে।
৮৭ বলে শতক পূর্ণ করা কনোলি শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে ১৪৯ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কা। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর একাই আধিপত্য বিস্তার করেন এই ওপেনার।
তবুও ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই নাটক জমিয়ে তোলেন শরিফুল ইসলাম। দুর্দান্ত বোলিংয়ে একে একে তুলে নেন ৬ উইকেট। মাত্র ৪৮ রান খরচায় ক্যারিয়ারসেরা এই বোলিংয়ে শেষ দিকে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। ২৬৬ থেকে ২৭১ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া হারায় চার উইকেট।
৪৯তম ওভারে মুস্তাফিজ কনোলিকে ফিরিয়ে দিলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাম্পা ও মেরেডিথ স্নায়ুচাপ সামলে লক্ষ্য স্পর্শ করেন।
৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান তুলে ১ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। যদিও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ, তবে শেষ ম্যাচে কনোলির ব্যাটে ভর করে হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি টাইগারদের।
আউট হয়ে গেলেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা গ্রিন
সোহানের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরলেন লাবুশেন
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া, কনোলির ফিফটি