মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে শক্তিশালী পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের গতির তোপ এবং তাইজুলের স্পিন জাদুতে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে গেছে শান মাসুদের দল। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই হোঁচট খায় পাকিস্তান; তাসকিনের বলে ২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইমাম-উল-হক। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ১ উইকেটে মাত্র ৬ রান তুলেছিল সফরকারীরা।
বিরতির পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। আজান আওয়াইস (১৫) ও অধিনায়ক শান মাসুদকে (২) দ্রুত বিদায় করে টাইগাররা উল্লাসে মাতে। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের হাল ধরেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আলী আঘা। আব্দুল্লাহ ফজলের ৬৬ রানের ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান এক সময় প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। চা-বিরতি পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১১৬ রান তুলে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান।
জয়ের জন্য শেষ সেশনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। সেশনের শুরুতেই তাইজুল ইসলামের বলে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন সেট ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজল। এর কিছুক্ষণ পরই তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সালমান। ৩১ রানের একটি জুটি গড়ে রোমাঞ্চ জাগানোর চেষ্টা করেছিলেন সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু গতির দানব নাহিদ রানা একাই তছনছ করে দেন পাকিস্তানের শেষ ব্যাটিং লাইনআপ। শাকিলকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করার পর রিজওয়ানকে সরাসরি বোল্ড করেন রানা।
এরপর আর কেউ দাঁড়াতে না পারলে ১৬৩ রানেই শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন। দুর্দান্ত এই জয়ে সিরিজে লিড নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলেও বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।