দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটাররা

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ব্যবধানে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল

বাংলাদেশের পাঁচ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুটা হলো হতাশাজনক পরাজয়ে। হারারেতে একমাত্র টেস্টে ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় আড়াই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অথচ এর আগে নিজেদের সর্বশেষ চারটি টেস্ট জয়ের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি টেস্টকে সামনে রেখে এই ম্যাচকে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখেছিল সফরকারীরা। কিন্তু সেই প্রস্তুতির সূচনা হলো বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যায়। এরপর ইনসেন্ট কাইয়ার সেঞ্চুরিতে ভর করে জিম্বাবুয়ে ৪১০ রান সংগ্রহ করে ২৭০ রানের লিড নেয়। ইনিংস পরাজয় এড়ানোর লড়াইয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১ উইকেটে ৪০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় দিনে বাকি ৯ উইকেট হারিয়ে আর মাত্র ১৪৫ রান যোগ করতে সক্ষম হয় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫ রানে অলআউট হওয়ায় এক বছর পর আবারও ইনিংস ব্যবধানে হারের স্বাদ পেতে হয় বাংলাদেশকে।

তৃতীয় দিনের শুরুতে মাহমুদুল হাসান জয় ২১ ও মমিনুল হক ৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন। তবে জুটি বেশিদূর এগোয়নি। আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ১ রান যোগ করে জয় বিদায় নেন। দুই ওভার পর ১৩ রান করে ফেরেন মমিনুলও। এরপর চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম ৬১ রানের জুটি গড়লেও সেটি বড় সংগ্রহে রূপ নিতে পারেনি। থিতু হওয়ার পরও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন শান্ত; ৩০ রান করে আউট হন তিনি। কিছুক্ষণ পর ব্লেসিং মুজারাবানির তৃতীয় শিকারে পরিণত হন মুশফিক। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

পরের সারিতেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা তাওহীদ হৃদয়, যিনি করেন ৯ রান। অমিত হাসান করেন ২৫ রান, আর তাইজুল ইসলাম ফেরেন ৮ রানে। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও কোনো স্পিনার ব্যবহার করেননি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। স্বাগতিকদের চার পেসারই দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সবকটি, অর্থাৎ ২০টি উইকেট নিজেদের দখলে নেন।