বিশ্বকাপে জোড়া অঘটন, বিদায় দুই জায়ান্ট জার্মানি-নেদারল্যান্ডস

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-তে জোড়া অঘটন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, আর মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস। দুই ম্যাচেই ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে।

নেদারল্যান্ডস ১–১ মরক্কো (টাইব্রেকারে মরক্কো ৩–২)

বোস্টনে জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচের চিত্র যেন হুবহু পুনরাবৃত্তি হয়েছে মন্তেরেইয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১–১ সমতার পর অতিরিক্ত সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, আর সেখানেই হাসে মরক্কো।

আগের ম্যাচে জার্মানি বিদায় নেওয়ার পর এবার একই ভাগ্য বরণ করতে হয় নেদারল্যান্ডসকে। স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ডাচরা।

তবে টাইব্রেকারে দুই দলের মিসের মহড়া ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় সেই লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মরক্কো।

নেদারল্যান্ডস তিনটি শট মিস করে। দ্বিতীয় শটে জাস্টিন ক্লুইভার্টের বল লাগে পোস্টে। চতুর্থ শটে পোস্টে মারেন কুইন্টেন টিম্বার। আর পঞ্চম শটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের চেষ্টা রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

শেষ ৩২ এর এই ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত তুলনামূলক ভালো খেলেছে মরক্কোই। ৭০ শতাংশ বলের দখল রেখে ১১টি শটের ৫টি লক্ষ্যে রাখে তারা। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ৬টি শটের মাত্র ২টি রাখতে পারে পোস্টে।

তবু ম্যাচে প্রথম এগিয়ে যায় ডাচরা। মরক্কোর বক্সে ঢুকে পড়ে যাওয়ার আগে ক্রিসেনসিও সামারভিলের বাড়ানো বল থেকে জোরালো শটে গোল করেন কোডি গাকপো। গোলের পর হাঁটু গেড়ে বসে আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। কয়েক দিন আগেই স্ত্রী নোয়া ফন ডার বিজ জানিয়েছেন, পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে তাদের অনাগত সন্তান এলিজা রাফায়েল গাকপো। সেই শোক বুকে নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন ডাচ ফরোয়ার্ড।

তবে শেষ পর্যন্ত গাকপোর গোলও নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করতে পারেনি। বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিল ডাচরা। ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালেও আর্জেন্টিনার কাছেই টাইব্রেকারে হেরেছিল তারা। ২০১৮ বিশ্বকাপেও জায়গা করে নিতে পারেনি নেদারল্যান্ডস।

জার্মানি ১–১ প্যারাগুয়ে (টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ে ৪–৩)

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের জন্ম দেয় প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে দুই ঘণ্টার লড়াই শেষে স্কোর ছিল ১–১। এরপর পাঁচটি করে শটেও ৩–৩ সমতা। সাডেন ডেথে জনাথন টাহ শট উড়িয়ে মারলে ভুল করেননি প্যারাগুয়ের হোসে কানালে। তাতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় জার্মানি।

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ে শুধু ম্যাচই জেতেনি, ভেঙে দিয়েছে জার্মানির টাইব্রেকারে অপরাজিত থাকার ইতিহাসও। এর আগে বিশ্বকাপে চারবার টাইব্রেকারে খেলেও কখনো হারেনি জার্মানি।

প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। টাইব্রেকারে জার্মানির দুটি শট ঠেকানোর পাশাপাশি ম্যাচেও করেন ছয়টি দুর্দান্ত সেভ।

বোস্টনের ম্যাচে শুরুতে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথম গোল পায় প্যারাগুয়ে। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসো দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে জার্মানি।

এরপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি জার্মানি। হাভার্টজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ও লিরয় সানের সব প্রচেষ্টাই আটকে যায় প্যারাগুয়ের রক্ষণে।

অতিরিক্ত সময়ে জনাথন টাহ হেডে বল জালে জড়ালেও গোলকিপারের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারের শুরুটাই খারাপ হয় জার্মানির। প্রথম শটে কাই হাভার্টজের চেষ্টা রুখে দেন হিল। কিমিখ ও মুসিয়ালা গোল করলেও চতুর্থ শটে নিক ভোল্টেমাডের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।

অন্যদিকে প্যারাগুয়ে প্রথম তিনটি শট থেকে গোল পেলেও চতুর্থ শট মিস করে। পঞ্চম শট ঠেকান ম্যানুয়েল ন্যয়ার। তবে সাডেন ডেথে হোসে কানালের শট আর রুখতে পারেননি জার্মান অধিনায়ক। সঙ্গে থামাতে পারেননি জার্মানির বিদায়ও।

২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার ফিরছে প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলেই। অন্যদিকে ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট প্যারাগুয়ে আবারও শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স–সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী।

AM/SN
আরও পড়ুন