টেস্ট সিরিজের হতাশা পেছনে ফেলে ওয়ানডে অধ্যায়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট করে জয় থেকে এক ধাপ দূরে পৌঁছে গেছে টাইগাররা। পুরো ইনিংসে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। ইতিহাস গড়ে ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছেন পেসার নাহিদ রানা। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার সেই সিদ্ধান্তকে শুরু থেকেই সঠিক প্রমাণ করেন বাংলাদেশের পেসাররা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ব্রায়ান বেনেটের একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হলেও সেটির বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। ৩৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। বেন কারান ১৮ রান করে মিরাজের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বেনেট।
ইনোসেন্ট কাইয়া কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করে ২৬ রান করলেও তাসকিনের শিকার হন। পরের বলেই শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। অভিজ্ঞ সিকান্দার রাজাকেও মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন নাহিদ রানা। ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে ও ব্র্যাডলি ইভান্সও ব্যর্থ হন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে। মাত্র ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
তবে নবম উইকেটে ইনোসেন্ট নিয়ামহুরি ও রিচার্ড এনগারাভা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দুজন মিলে ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ কিছুটা এগিয়ে নেন। নিয়ামহুরি সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন, এনগারাভার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানার ৬ উইকেটের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট তুলে নেন। একটি রান আউটও আসে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শুভসূচনা করতে এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ১৪২ রান। বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্সের পর ব্যাটারদের সামনে রয়েছে স্বাচ্ছন্দ্যে লক্ষ্য স্পর্শ করে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।