বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা থামল না হারারেতে। ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় ভালো অবস্থানে থেকেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৩ রানের পরাজয় বরণ করেছে সফরকারীরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এই হারের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৩ রানে ব্লেসিং মুজারাবানির বাউন্সারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ৫ রান করে ফেরেন সৌম্য সরকার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান দ্বিতীয় উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সেটি বড় হয়নি। অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন নিজের প্রথম ওভারেই শান্তকে ফিরিয়ে দেন। ১৬ বলে ৯ রান করা শান্ত উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিলে ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর দায়িত্ব নিয়ে খেলেন তানজিদ হাসান। ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার সমন্বয়ে ৭০ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ব্রায়ান বেনেটের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৭ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভেঙে যায় ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি এবং সেখান থেকেই বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু হয় ধস।
তাওহীদ হৃদয় ৭ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হন। মোসাদ্দেক হোসেনও ৭ রানের বেশি করতে পারেননি। একপ্রান্তে নুরুল হাসান সোহান কয়েকটি কার্যকর বাউন্ডারিতে লড়াই চালিয়ে গেলেও ৪১ বলে ৩৮ রান করে রিচার্ড এনগারাভার শর্ট বলে ক্যাচ দিলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ১৩ রান দূরেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকেও দ্রুত হারায় স্বাগতিকরা। ওয়েসলি মাধেভেরে ১৫ রান করে ফিরলে ৬৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
সেখান থেকে ইনিংস গড়ে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। রাজা ৩৩ রান করে আউট হলেও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন কারান। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্সকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
কারান ১২২ বলে শতক পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন। অন্য প্রান্তে ব্র্যাড ইভান্স মাত্র ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি উইকেট নেন। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পরাজয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। এখন সফরকারীদের সামনে শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে ব্যবধান কমিয়ে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ।