ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা। ফলে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে।
বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ব্যাট হাতে ইনিংসের শেষ দিকে মাত্র ১০ বলে চারটি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৩১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর বল হাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে শক্ত ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। দুজনই তুলে নেন দুর্দান্ত অর্ধশতক। অন্যদিকে বল হাতে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ছিলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তিনি ৩.৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান খরচায় ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে ৩২ রানের পরাজয় বরণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৪ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে সফরকারীরা। এখন সিরিজ জয়ের জন্য দুই দলের সামনেই রয়েছে সমান সুযোগ।
শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। তারা উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রান যোগ করেন, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি।
তবে এই জুটির বিচ্ছেদের পর কিছুটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও নুরুল হাসান সোহান। এতে একসময় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কিছুটা ম্লান হয়ে পড়ে।
কিন্তু ইনিংসের শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ইয়াসির আলি ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তারা বাংলাদেশের সংগ্রহকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। সাইফউদ্দিন ১০ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর ইয়াসির আলি ১২ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ২২ রান। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২১ রানেই হারিয়ে ফেলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এরপর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও মিল্টনের ৪৪ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে ৩৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ এবং সিরিজে সমতা ফিরিয়ে নির্ধারণী ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।