মুস্তাফিজের চমক, পাকিস্তানকে ১১০ রানে থামিয়ে দিলো বাংলাদেশ

টানা টসে হারের পর অবশেষে ফিরল ভাগ্য লিটন দাসের। নয় ম্যাচ পর টস জিতে মিরপুরে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটিই এনে দিল বাংলাদেশকে সিরিজের দুর্দান্ত সূচনা। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সফরকারীদের মাত্র ১১০ রানে অলআউট করে জবাবী ইনিংসের মঞ্চ তৈরি করল লাল-সবুজের দল।

লিটনের সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করে শুরু থেকেই আগুন ঝরান তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী এবং তানজিম হাসান সাকিব। টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার পর বাংলাদেশ যেন আগুনে বোলিংয়ে পুরো পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপকে চেপে ধরে। ১৯.৩ ওভারেই ১১০ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে যা তাদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।

ম্যাচের হাইলাইট ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসার গড়েছেন নতুন রেকর্ড। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট—আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কৃপণ বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। এর আগে কেউই ৪ ওভারে এত কম রান দিয়ে বল করেননি।

তাসকিন আহমেদ তুলে নেন ৩টি উইকেট, যার মধ্যে প্রথমেই ফিরিয়ে দেন সাইম আইয়ুবকে। এরপর টপ অর্ডারে একে একে সাজঘরে ফেরেন হারিস, সালমান, নওয়াজরা। পাওয়ারপ্লে’র মধ্যেই পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৪১/৪।

এক প্রান্ত আগলে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন ফখর জামান। ৩৪ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে তাকেই মনে হচ্ছিল একমাত্র আশা। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে দিলে কার্যত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস। শেষদিকে খুশদিল শাহ (১৭) ও আব্বাস আফ্রিদি (২২) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা দলের সম্মানজনক স্কোর এনে দিতে পারেনি।

শেষ ওভারে নাটকীয় পরিণতি ঘটে পাকিস্তান ইনিংসে। ৭ উইকেটে ১১০ রানে থাকা দলটি তাসকিনের করা ওভারে তিন বলেই হারায় বাকি তিন উইকেট—ফাহিম আশরাফ ক্যাচ দেন মেহেদীর হাতে, সালমান মির্জা রানআউট, আর আব্বাস আফ্রিদিকে ধরেন লিটন দাস।

বাংলাদেশের হয়ে উইকেট শিকার করেছেন তানজিম ও শেখ মেহেদীও। বোলারদের সম্মিলিত প্রয়াসে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের আগের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে দাপুটে। এমনকি পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সংস্করণে এটি তাদের সর্বনিম্ন স্কোর-আগে ২০১৬ সালে মিরপুরেই তারা করেছিল ১২৯/৭।