বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাদমান ইসলাম নামটা মানেই ধৈর্য, টেস্ট ব্যাটিংয়ের মডেল। দীর্ঘ ইনিংস খেলে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করা, ছোট ছোট শটে রান গড়া- সেটাই তার চেনা স্টাইল। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার যেন দেখা গেল অন্য এক সাদমানকে- রঙিন, আগ্রাসী, নির্ভার। ব্যাটে আগুন ঝরিয়ে গড়লেন জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি।
এর আগে ২০ ম্যাচে সাদমানের একমাত্র ফিফটি ছিল ৫৪ রানের ইনিংস। গড় ছিল ১৬.৩১, স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯৩.২১- যা থেকে বোঝাই যাচ্ছিল না যে তিনি টি-টোয়েন্টিতে এমন ঝড় তুলতে পারেন। সাদমান খেললেন ৬১ বলে ১০১ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস, যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা।
মাহফিজুল ইসলাম রবিনের সঙ্গে তার উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৭৭ রান- যা জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। আগের রেকর্ড ছিল নাজমুল হোসেন শান্ত ও হাবিবুর রহমানের ১৪৮ রানের পার্টনারশিপ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা মেট্রো শুরু থেকেই বরিশালের বোলারদের ওপর চড়াও হয়। রুয়েল মিয়ার প্রথম ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মারেন সাদমান, পরের ওভারে মাহফিজুলও জোড়া বাউন্ডারি মারেন সোহাগ গাজীকে। মাত্র ছয় ওভারে আসে ৫৫ রান। ৩৬ বলে ফিফটি ছোঁন সাদমান, মাহফিজুল করেন ৩০ বলে। অবশেষে ১৮তম ওভারে ভাঙে রেকর্ড জুটি- ইফতেখার হোসেন ইফতির বলে ক্যাচ তুলে দেন মাহফিজুল, যিনি করেন ৪৯ বলে ৭৯ রান। এর পরও সাদমান থামেননি। ৫৯ বলে শতরান স্পর্শ করেন তিনি, আউট হন ইনিংসের শেষ ওভারে, কিন্তু ততক্ষণে ঢাকার বোর্ডে জ্বলে উঠেছে ১৯৭ রানের বিশাল স্কোর।
বরিশালের ব্যাটিং ছিল সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ। আজমির আহমেদ ২৬ রানের ইনিংস খেললেও বাকিরা ছিলেন একেবারে ছায়ামাত্র। একশ পার করতে হিমশিম খায় দল। আবু হায়দার, রকিবুল হাসান ও মারুফ হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বরিশাল গুটিয়ে যায় ১০১ রানে।
ঢাকা মেট্রোর জয় আসে ৯৬ রানে-যা এবারের আসরের অন্যতম বড় ব্যবধানের জয়। সাত পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন পয়েন্ট টেবিলের তিনে। স্বভাবতই ম্যাচসেরার পুরস্কার পান শতরান করা সাদমান ইসলাম।
দিনের অন্য ম্যাচেও নাটক কম ছিল না। রংপুরকে ১৪৪ রানে থামিয়ে রাজশাহী জিতেছে ৬ উইকেটে, যদিও ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে রংপুরের বাঁহাতি স্পিনার আবু হাশিম।
তিনি তিন বলে তিন উইকেট নেন, কিন্তু মাঝের একটি বল ওয়াইড হওয়ায় হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হয়। রাজশাহী তখন ২৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। কিন্তু অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান ও তরুণ শাকির হোসেন শুভ্র ষষ্ঠ উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জেতান শাকির, পান ম্যাচসেরার পুরস্কারও।