মিরাজ–হৃদয়ের লড়াইয়ের পরও বড় পুঁজি পায়নি বাংলাদেশ

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরো ৪৮.৫ ওভার খেলেও দলের সংগ্রহ থেমেছে ২২১ রানে। ইনিংসের ভরসা ছিলেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাওহিদ হৃদয়। দুজনই ফিফটি হাঁকালেও তাদের পর আর কেউই বড় ইনিংস গড়তে পারেননি।

দিনের শুরুটা যেমনটা প্রত্যাশিত ছিল, তেমনটা হয়নি টাইগারদের জন্য। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম। এরপর নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত, কিন্তু তিনি টিকলেন মাত্র পাঁচ বল। এরপর কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সাইফ হাসান। ৩৭ বলে ২৬ রান করে যখন সাজঘরে ফিরলেন, তখন দলের রান ৫৭।

এরপর ক্রিজে আসেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। চতুর্থ উইকেটে তারা দলকে স্থিতি এনে দেন। ধীরে ধীরে ইনিংস সাজিয়ে একসময়ে শতরানের জুটি গড়ে তোলেন দুজন। ৮৫ বলে ৫৬ রান করে রানআউট হয়ে ফিরে যান হৃদয়, তার পরপরই ৬০ রান করে ফেরেন মিরাজ। দুজনের বিদায়ের পর থেকেই যেন ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ইনিংস।

শেষ দিকে ব্যাট হাতে কেউই আর ইনিংস গড়তে পারেননি। জাকের আলী ১০, নুরুল হাসান সোহান ৭, তানজিম হাসান সাকিব ১৭ রান করে ফেরেন। ইনিংসের শেষ মুহূর্তে কিছুটা চেষ্টা করেন তানভীর ইসলাম, ৮ বলে ১১ রান করে তিনি দলের স্কোর বাড়ান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

আফগান বোলারদের মধ্যে রশিদ খান ও আজমাতউল্লাহ ওমারজাই ছিলেন সবচেয়ে সফল। দুজনই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। এএম গাজানফার পেয়েছেন দুটি। এই ম্যাচে মিরাজকে আউট করে রশিদ খান ওয়ানডে ক্রিকেটে দুইশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।

বাংলাদেশ এক সময় আড়াইশ পেরোনোর আশা জাগালেও শেষ ছয় উইকেট পড়েছে মাত্র ৪৬ রানে। ব্যাটিংয়ের এই ভঙ্গুরতা দলকে ফেলেছে বিপদে।