বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। জাতীয় দলের সাবেক পেসার জাহানারা আলমের এক সাক্ষাৎকার ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সেই সাক্ষাৎকারে বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিসহ দলের কিছু খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন জাহানারা। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্যোতির প্রতিক্রিয়া, আর শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন জাহানারা আলম। তবে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি তাকে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার পর থেকেই তিনি দলের বাইরে। এক জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট ও কিছু খেলোয়াড়ের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে’ তিনি উপেক্ষিত। জাহানারার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের ভেতরে একটি ‘গ্রুপিং’ সংস্কৃতি কাজ করছে, যা পারফরম্যান্সের পরিবর্তে সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভূমিকা রাখছে।
অভিযোগের জবাবে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘দলটা আমাদের সবার। যখন দলটা সবচেয়ে ভালো সময় পার করছে, তখন এত নেতিবাচক কথাবার্তা, ব্যক্তিগত ক্ষোভ আর প্রতিহিংসা দেখে কষ্ট লাগে। যারা একসময় এই দলটাকে আগলে রেখেছেন, তারাই এখন এমন মন্তব্য করছেন- এটা হতাশার।’
আরও যোগ করেন, ‘যখন কেউ দল থেকে বাদ পড়েন বা অফ ফর্মে থাকেন, তখনই মনে হয় দলের সব কিছু খারাপ। কিন্তু যারা দলের প্রতি আস্থা রেখেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। গুজব ছড়িয়ে সাময়িকভাবে আলোচনায় আসা কোনো লাভ দেবে না।’
বিতর্কের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘বিসিবি সম্প্রতি এক সাবেক নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্য লক্ষ্য করেছে। বর্তমান অধিনায়ক, খেলোয়াড়, স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অসত্য।’
বোর্ড জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ তদন্তে যেতে পারে।