সিলেটের দুপুর যেন অপেক্ষায় ছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের। ১৯০তম বলটি পড়তেই ইতিহাস আবার নিজেকে নতুন করে লিখে নিল। জর্ডান নিলের অফস্টাম্পের বাইরের বলটি দক্ষ হাতে কাট করলেন জয়, গালি অঞ্চল পেরিয়ে বল ছুটে গেল সীমানার বাইরে। আর তাতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল ডাগআউট-কারণ, জয় তখন পূর্ণ করেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
একটা সময় ছিল, যখন তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ওপেনার হিসেবে দেখা হতো। তারপর সময়টা কঠিন হলো। ফর্ম হারানো, জায়গা হারানো, সমালোচনার পাহাড়-সব পেরিয়ে অবশেষে আবার জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। আর সেই ফেরা হলো সেঞ্চুরির হাত ধরে।
এই ইনিংস কেবল সংখ্যার দিক থেকে বড় নয়, মানসিক দৃঢ়তার প্রতীকও বটে। ৭২ বলে পঞ্চাশ, এরপর আরও ১১৮ বলে পরের পঞ্চাশ-তাড়াহুড়ো নেই, অহেতুক ঝুঁকি নেই। ক্রিজে তিনি যেন এক শান্ত সৈনিক, যার অস্ত্র কেবল ধৈর্য। নয়টি চার আর একটি ছক্কার মিশেলে গড়া শতকটি তাই যেন জয়ের মনের প্রতিফলন,নীরব অথচ দৃঢ়।
টেস্ট একাদশে ফেরা ম্যাচেই এই সেঞ্চুরি তার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় খুলে দিল। ২০২২ সালের মার্চে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩২৬ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলার পর এটি তার দ্বিতীয় শতক। তিন বছর ও ৩০ ইনিংস পর আবারও সেই আনন্দের দেখা পেলেন জয়। ঘরের মাঠে এটাই তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
দিনের শেষ বিকেলে বাংলাদেশের স্কোর৬৫ ওভারে ১ উইকেটে ২৩৯। অপরাজিত জয় ১৯৪ বলে ১০০ রানে, পাশে রয়েছেন মুমিনুল হক ২৫ রানে। স্কোরকার্ডের পরিসংখ্যান হয়তো শুধু সংখ্যা, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক তরুণ ক্রিকেটারের অদম্য প্রত্যাবর্তনের কাহিনি।