সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে ইতিহাসের দিকে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের পথ রোধ করতে পারেনি আয়ারল্যান্ডের শেষ দিকের লড়াই। সকালে ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড যখন মাঠে নামে, তখন ম্যাচ ছিল প্রায় একপাক্ষিক। কিন্তু ম্যাকব্রাইন, নেইল ও ম্যাককার্থি মিলে ম্যাচটিকে প্রতিযোগিতামূলক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তাদের সাহসী ব্যাটিং একসময় বাংলাদেশকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে বাধ্য করলেও দিনের শেষে ছবিটা বদলায়নি, টাইগাররা ইনিংস ও ৪৭ রানের দাপুটে জয় নিয়েই ম্যাচ শেষ করেছে।
প্রথম সেশনে ম্যাথু হামফ্রেস আর পরে অ্যান্ডি বালবির্নির বিদায়ে আয়ারল্যান্ডের ওপর চাপ আরও বাড়ে। তবুও ম্যাকব্রাইন ধরে রাখেন দৃঢ়তা। স্পিনবান্ধব উইকেটে তার ১০৬ বলে ৫২ রানের লড়াই আইরিশদের জন্য আশার আলো ছিল। লাঞ্চের সময় ১৯৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ফেরার পরও মনে হচ্ছিল তিনি আরও কিছুক্ষণ টিকে আছেন। কিন্তু রানার গতিময় বোলিংয়ের সামনে ফিরে যেতে হয় তাকেও। তার বিদায়ে নতুন করে চাপ বাড়ে আইরিশদের ওপর।
শেষদিকে নেইল এবং ম্যাককার্থি দুজনই চেষ্টা করেছিলেন ম্যাচটিকে দীর্ঘায়িত করতে। নেইলের ৩৬ এবং ম্যাককার্থির ২৫ রানে কিছুক্ষণ দারুণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখা যায়। বাংলাদেশের স্পিনারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে তারা ইনিংস হার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে মুরাদের নিখুঁত লেংথে নেইল আউট হন এবং পরের ওভারেই তাইজুলের বলে ক্যাচবিহাইন্ড হয়ে ম্যাককার্থির বিদায়ে শেষ হয় আইরিশ প্রতিরোধের গল্প। আল্ট্রা এজে ধরা পড়া সামান্য ব্যাট-ছোঁয়ার রিভিউতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৫৪ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫৮৭ রানের বিশাল সংগ্রহের কারণেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল একচেটিয়াভাবে স্বাগতিকদের হাতে। মুরাদের ৪, তাইজুলের ৩ এবং রানার ২ উইকেট মিলিয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ আবারও প্রমাণ করল টেস্ট ক্রিকেটে তাদের উন্নতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এই জয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে যোগ হলো আরেকটি উজ্জ্বল দিন। এটি তাদের ২৪তম টেস্ট জয় এবং ইনিংস ব্যবধানে চতুর্থ সাফল্য। এখন সিরিজ গড়াচ্ছে ঢাকায়, যেখানে ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্ট হবে মুশফিকুর রহিমের মাইলফলক লেখা, তার ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট।