ঢাকার মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে দৃঢ় ব্যাটিংয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শেষে ৩৬৭ রানের লিড থাকলেও শনিবার সকালে ব্যাট হাতে নেমে সেই লিড নিয়ে গেছে পাঁচশ’র দুয়ারে। লাঞ্চ বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৮০, লিড ৪৯১। ম্যাচের ছবি ক্রমেই একতরফা হয়ে উঠছে।
আজ দিনের শুরুটা ছিল আয়ারল্যান্ডের। ১ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ দ্রুত হারায় দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আগের দিনের অপরাজিত ওপেনার সাদমান ইসলাম ১১৯ বলে ৭৮ রান করে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের বলে বিদায় নেন। তার বিদায়ের পরেই নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ১ রান করে জর্ডান নিলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। দুই ওভারে দুই উইকেট পড়ে দল কিছুটা চাপে পড়লেও সেই চাপ বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশের এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার শুরু থেকেই দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা দেখিয়ে ইনিংসকে ফের স্থির করেন। ধীরে ধীরে তারা হাত খুলে খেলতে শুরু করেন, আর তাতেই জুটি দ্রুত বড় হতে থাকে। ১৪৯ বলে আসে তাদের ১০৬ রানের জুটি, যা তাদের আগের ইনিংসের শতরানের জুটিরই ধারাবাহিকতা। প্রথম পঞ্চাশ তুলতে লাগে ৯২ বল, পরের পঞ্চাশ আসে মাত্র ৫২ বলে, যা প্রমাণ করে কীভাবে তারা আক্রমণের গতি জোরদার করেছিলেন।
মুমিনুল ছিলেন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী ছন্দে। টানা দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি পূর্ণ করে তিনি এগোচ্ছেন সেঞ্চুরির দিকে। তার সংগ্রহ লাঞ্চ পর্যন্ত ১১১ বলে নয় চারে ৭৯ রান। অন্যদিকে নিজের শততম টেস্টে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মুশফিকও ছিলেন সমান দৃঢ়তায়। ৭০ বলে একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে তিনি করেন ৪৪ রান। দুজন মিলে প্রথম সেশনে তুলেছেন ১২৪ রান; আর শেষ ১০ ওভারে এসেছে ৫৭।
মিরপুরের উইকেট ব্যাটিংবান্ধব হলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা যে ধৈর্য ও পরিণতিতে খেলছেন, তাতে আয়ারল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ম্যাকব্রাইন, জর্ডান নিল ও গ্যাভিন হোয়ে একটি করে উইকেট পেয়েছেন বটে, কিন্তু ম্যাচ ফেরানোর মতো পরিস্থিতি আদৌ তৈরি করতে পারেননি তারা।