অবসর যাওয়ার সময় জানালেন নেইমার

নেইমারের ক্যারিয়ার যেন এক রোমাঞ্চকর গল্প। সান্তোসে শুরু করে অল্প বয়সেই বিশ্বকে মুগ্ধ করেন অসাধারণ স্কিল আর জাদুকরী খেলায়। বার্সেলোনায় মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে এমএসএন ত্রয়ী গড়ে ২০১৫-এ ট্রেবল জিতে ইতিহাস রচনা করেন, পুরনো ব্রাজিলের নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনেন।

কিন্তু পিএসজিতে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড ট্রান্সফারের পর চোট-আঘাত, বিতর্ক আর অস্থিরতায় পড়েন। সৌদি আরবের আল-হিলালে বিশাল চুক্তি হলেও মাত্র কয়েক ম্যাচ খেলেই চোটে থামতে হয়। শেষে ২০২৫-এ ফিরে আসেন শৈশবের সান্তোসে, দলকে অবনমন থেকে বাঁচিয়ে নতুন প্রাণ দেন- গোল, অ্যাসিস্ট আর নেতৃত্ব দিয়ে।

জাতীয় দলে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল) হলেও বড় ট্রফির অভাব রয়ে গেছে। বিশ্বকাপ-কোপায় একের পর এক হতাশা। এখন ৩৪ বছরে চোট থেকে ফিরে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু ডিসেম্বরে চুক্তি শেষে অবসর নেওয়ার কথাও ভাবছেন। সম্প্রতি ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র বলেছেন, চলতি বছর শেষে সান্তোস এফসির সঙ্গে তার চুক্তি মেয়াদ শেষ হলে তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা এখনো পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠছেন এবং মাত্র একটি ম্যাচে ৪৫ মিনিট খেলে একটি অ্যাসিস্ট করেছেন।  

তবে তার মূল লক্ষ্য এখনো একই, ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরে আসা। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি সেলেসাওর হয়ে খেলেননি। নেইমার বলেন, “আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে। ডিসেম্বরে এসে হয়তো অবসর নিতে চাইব। এখন দিনে দিনে এগোচ্ছি। এই বছরটা সান্তোস, ব্রাজিল দল আর আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা বিশ্বকাপের বছর। আমার জন্যও এটা বড় চ্যালেঞ্জ।”  

ফিটনেস আর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার জবাবে নেইমার বলেন, “অনেকে আমার সম্পর্কে নানা কথা বলে, কিন্তু আমার দৈনন্দিন জীবন জানে না। আমি ব্যথা ছাড়া, ভয় ছাড়া ফিরেছি এবং শেষ ম্যাচে ভালো খেলেছি। এখনো একটু রিদম দরকার, আরও উন্নতি করব।”  

ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল, ১২৮ ম্যাচ) নেইমার এখন কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে চান। ২০২৬ সালের জুন মাসে আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে এটাই হয়তো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হতে পারে। ব্রাজিল গ্রুপ সি-তে আছে, প্রথম ম্যাচ মরক্কোর বিপক্ষে ১৩ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, তারপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলা।