অস্ট্রেলিয়ায় চলমান নারী এশিয়া কাপ টুর্নামেন্ট চলাকালীন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া ইরান নারী ফুটবল দলের সদস্যদের মধ্যে বড় ধরণের পরিবর্তন দেখা গেছে। দলের সাত সদস্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ জন তাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। ইরানে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাঁদের এই অবাধ্যতাকে দেশটির কট্টরপন্থীরা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর দেশে ফিরলে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে দলের ছয় খেলোয়াড় ও একজন স্টাফসহ মোট সাতজন অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি, খেলোয়াড় মোনা হামৌদি, জাহরা সারবালি এবং সাপোর্ট স্টাফ জাহরা মেশকেকার ইতোমধ্যে তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। তাঁরা বর্তমানে মালয়েশিয়া হয়ে তেহরানের পথে রয়েছেন। এর আগে গত বুধবার স্ট্রাইকার মোহাদ্দেসে জোলফি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর মানবিক ভিসা ফেরত দিয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে ইরানি নারী দলের মাত্র দুই জন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট জানান, আবেদন প্রত্যাহারের আগে এই নারীরা তাঁদের পরিবার এবং অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করতে পারি না। তাঁরা স্বাধীনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, এই খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা এবং পারিবারিক চাপের প্রেক্ষাপটে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা অনুমেয়।
উল্লেখ্য, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় সঙ্গীত বিতর্ক ও পরবর্তী আইনি জটিলতা কাটিয়ে এই ফুটবলারদের দেশে ফেরা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।