আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে সুযোগ দেওয়ার মার্কিন প্রস্তাব ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইতালির সরকার ও ক্রীড়া কর্মকর্তারা। মাঠের পারফরম্যান্সের বদলে রাজনৈতিক সমীকরণে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূত পাওলো জামপোল্লি সম্প্রতি এক অদ্ভুত প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করে বা তাদের নিষিদ্ধ করা হয়, তবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে সেই শূন্যস্থানে সুযোগ দেওয়া উচিত। জামপোল্লি দাবি করেন, ইতালির সমৃদ্ধ ফুটবল ঐতিহ্য এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বড় যুক্তি হতে পারে।
তবে ইতালির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি সরাসরি বলেন, ‘মাঠে যোগ্যতা প্রমাণ করেই বিশ্বকাপে যেতে হয়। এ ধরনের প্রস্তাব মোটেও উপযুক্ত নয়।’ দেশটির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকারলো জর্জেত্তি এই প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুসিয়ানো বুওনফিগলো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথমত, এটি নিয়ম অনুযায়ী সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক তদবিরে বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পেলে আমি ব্যক্তিগতভাবে অপমানিত বোধ করব। বিশ্বকাপে যেতে হলে সেটা অর্জন করতে হয়।’ এমনকি ইতালির কোচ জিয়ান্নি দি বিয়াসিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইতালির ফুটবলে ট্রাম্পের কোনো বিশেষ সমর্থনের প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। অন্যদিকে, ইরান টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও এখন পর্যন্ত ইরানকে নিষিদ্ধ করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা।
সূএ: আল-জাজিরা।
মেলোনির জন্য বিশ্বকাপ ঘিরে অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক প্রস্তাব