ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক চরম নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ২২ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আর্সেনাল। রোববার ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে বিতর্কিত ও রোমাঞ্চকর ১-০ গোলের জয়ে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে গেল মিকেল আর্তেতার দল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-এর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন পুরো ফুটবল বিশ্বে চলছে তোলপাড়।
লন্ডন স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ডের শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে লিড নেয় আর্সেনাল। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় একদম শেষ মুহূর্তে। আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া পেনাল্টি বক্সের ভেতর বল হাত থেকে ফেলে দিলে সুযোগ বুঝে গোল করে বসেন ওয়েস্ট হ্যামের ক্যালাম উইলসন। পুরো স্টেডিয়াম যখন হ্যামার্স সমর্থকদের উল্লাসে কাঁপছে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয় ভিএআর।
ভিএআর রেফারি ড্যারেন ইংল্যান্ডের পরামর্শে মাঠের রেফারি ক্রিস কাভানাঘ সাইড-লাইন মনিটর চেক করেন। দীর্ঘ সময় রিপ্লে দেখার পর রেফারি ঘোষণা দেন, বল হাত থেকে পড়ার আগে ওয়েস্ট হ্যামের পাবলো গোলরক্ষক রায়াকে ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং আর্সেনাল নিশ্চিত এক পয়েন্ট হারানোর হাত থেকে রক্ষা পায়।
এই জয়ের পর ৩৬ ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৮৮, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির (৮৩ পয়েন্ট) চেয়ে ৫ বেশি। এখন আগামী ১৮ মে বার্নলি এবং ২৪ মে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচ জিতলেই ২০০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে আর্সেনাল। তবে সিটি যদি বুধবার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে হেরে যায়, তবে বার্নলিকে হারালেই এক ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে গানার্সদের।
ম্যাচ শেষে আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা এই সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী ও সঠিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এটি স্পষ্টতই একটি ফাউল ছিল এবং রেফারি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বচ্ছতা দেখিয়েছেন।” অন্যদিকে, ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়েস্ট হ্যাম কোচ নুনো এসপিরিতো সান্তো বলেন, ‘রেফারিরা নিজেরাই জানেন না কোনটি ফাউল আর কোনটি নয়। এটি মানুষের মনে অনেক সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল এই ঘটনাকে ‘ভিএআর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে এই হার ওয়েস্ট হ্যামের জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। বর্তমানে তারা পয়েন্ট টেবিলের ১৮ নম্বর অবস্থানে রয়েছে এবং রেলিগেশন বা অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে চরম চাপের মুখে পড়েছে।