বিশ্বকাপে জার্মানির ভরসা মুসিয়ালা-উইর্টজ জুটি

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে প্রস্তুত করছে জার্মানি। প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে নতুন রূপে গড়ে ওঠা দলটি আক্রমণাত্মক ফুটবল, তরুণ প্রতিভা এবং কৌশলগত বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে টুর্নামেন্টে ভালো করার স্বপ্ন দেখছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় আসরে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকছে।

জার্মান দলের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে ধরা হচ্ছে জামাল মুসিয়ালাকে। গত ক্লাব বিশ্বকাপে পা ভাঙার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও এখন তিনি পুরোপুরি ফিট। বল পায়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার দক্ষতা এবং সংকীর্ণ জায়গায় খেলার সামর্থ্যের কারণে তাকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে মুসিয়ালার পাশাপাশি ফ্লোরিয়ান উইর্টজও সমানভাবে আলোচনায় রয়েছেন। অনেকের মতে, বর্তমান জার্মান দলের সবচেয়ে সৃজনশীল দুই ফুটবলারের একজন তিনি। ফলে নাগেলসমানের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে এমন একটি ছক তৈরি করা, যেখানে মুসিয়ালা ও উইর্টজ একসঙ্গে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবেন।

কৌশলগত দিক থেকে নাগেলসমানকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উদ্ভাবনী কোচদের একজন মনে করা হয়। তিনি একাধিক ফরমেশন ব্যবহার করলেও তার মূল দর্শন আক্রমণাত্মক ফুটবল। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে জার্মানিকে প্রায়ই তিন-দুই-পাঁচ কিংবা দুই-তিন-পাঁচ ধরনের আক্রমণভিত্তিক বিন্যাসে দেখা যায়। প্রতিপক্ষের অর্ধে খেলা, বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং ক্রমাগত আক্রমণ গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ইউরোর পর থেকে জার্মানি বেশ কয়েকটি বড় জয় পেয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে চার-শূন্য, পাঁচ-শূন্য, ছয়-শূন্য এবং সাত-শূন্য ব্যবধানে জয়ের নজিরও রয়েছে। তবে আক্রমণভাগ যতটা উজ্জ্বল, রক্ষণভাগ ততটা স্থিতিশীল নয়। মাঝে মধ্যেই তাদের ডিফেন্সে দুর্বলতা ধরা পড়েছে।

জার্মানির শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র মত রয়েছে। ২০১৬ ইউরোর পর থেকে তারা আর কোনো বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। ইউরো ২০২৪-এ স্পেনের কাছে হারার পাশাপাশি নেশনস লিগে ফ্রান্স ও পর্তুগালের বিপক্ষেও পরাজিত হয়েছে দলটি। ফলে শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের চাপ থাকছেই।

মিডফিল্ডেও চলছে রূপান্তরের সময়। দীর্ঘদিনের নির্ভরতার প্রতীক টনি ক্রুস ও ইলকাই গুনদোয়ানের অবসরের পর নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের ওপর দায়িত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ মিডফিল্ডার আলেকসান্দার পাভলোভিচের দিকে নজর থাকবে সবার।

গোলপোস্টেও নেই সাবেক অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার। দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। ফলে অভিজ্ঞতার জায়গায় কিছুটা ঘাটতি থাকছে জার্মান দলে।

সবকিছু মিলিয়ে শক্তিশালী আক্রমণভাগ, প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার এবং কৌশলী কোচের নেতৃত্বে জার্মানি বিশ্বকাপে ভালো করার প্রত্যাশা রাখলেও শিরোপার পথে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং বড় ম্যাচে ধারাবাহিকতার অভাব। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, এবার জার্মানির সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে কোয়ার্টার ফাইনাল। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ