ইরানের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে তারা। কিন্তু এখনও ভিসা হাতে আসেনি। ইরানের ফুটবল ফেডারেশন আশা করছে, তাদের দল মঙ্গলবার মেক্সিকোতে প্রবেশের অনুমতি পাবে এবং শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা হাতে আসবে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ ইরানিয়ান টিভির সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘শনিবার আমরা স্পেনের উদ্দেশে রওনা হব এবং সেখান থেকে দল সরাসরি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় যাবে। মঙ্গলবার বা পরের দিন আমরা মেক্সিকান ভিসা পাব এবং তারপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও দ্রুত চলে আসবে।’
ইরানের ট্রেনিং বেজ ছিল আরিজোনার টাকসনে। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধে ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোর তিজুয়ানাতে। এ কারণেই বাড়তি ভিসা প্রয়োজন পড়ছে।
ইরান তাদের দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলবে ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে। ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। ছয় দিন পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ। সিয়াটলে ইরানের তৃতীয় ম্যাচ ২৬ জুন মিসরের বিপক্ষে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে টিম মেলির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ কমেনি। ফিফা দীর্ঘদিন ধরেই বলছে, ইরান এই টুর্নামেন্টে পুরোদমে অংশ নেবে।
ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার শুরু হয় এপ্রিলে। ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকান রেভ্যুলেশন গার্ডের সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক থাকার কারণে তাজের কানাডা প্রবেশের ভিসা বাতিল করা হয়। একে সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন ইসলামিক রেভ্যুলেশন গার্ড কর্পসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, ইরানি ফুটবল দলের এমন যে কাউকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে।
‘আমরা আগেই যেমনটি বলেছি, ক্রীড়াবিদ বা তাদের সাপোর্ট স্টাফদের নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই,’ হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন সাবকমিটির শুনানি চলাকালীন রুবিও বলেন। ‘তবে আমরা যা কোনোভাবেই মেনে নেব না তা হলো—তাদের প্রতিনিধি দলের ভেতর এমন একদল লোককে ঢুকিয়ে দেওয়া, যাদের সাথে খেলাধুলার কোনো সম্পর্ক নেই এবং যাদের আইআরজিসি বা এই জাতীয় সংস্থার সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে।’
দেশের বাইরে থেকে আসা বাকি দেশগুলো নিয়ে শঙ্কিত নন তিনি, ‘তাই আমরা এই বিষয়টির ওপর অত্যন্ত কড়া নজর রাখছিলাম এবং ভবিষ্যতেও খুব নিবিড়ভাবে নজরদারি চালিয়ে যাব। তবে সামগ্রিকভাবে, অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে আমি এই ধরনের সমস্যার আশঙ্কা করছি না।’ যুদ্ধের পর থেকে পেশাদার ফুটবল বন্ধ হলেও ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্কের শহর আনতালিয়ায়।