চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে ইরাক। আর এই প্রত্যাবর্তনকে শুধু অংশগ্রহণ হিসেবে নয়, বরং নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ হিসেবেই দেখছেন দলটির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ।
১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ইরাকের ফুটবলাররা বলছেন, তারা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নয়, বরং প্রতিপক্ষকে চমকে দিতেই আসছেন। তাদের বিশ্বাস, কঠিন সময় পেরিয়ে উঠে আসা একটি দল হিসেবে লড়াই করার মানসিকতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিশ্বকাপে ইরাকের গ্রুপটিও বেশ কঠিন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, নরওয়ে এবং সেনেগাল। শক্তিশালী এই দলগুলোর বিপক্ষে ইরাককে খুব বেশি সুযোগ দেওয়া না হলেও দলটির ভেতরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই।
ইরাকের ফুটবল যাত্রা বরাবরই সংগ্রামের গল্পে ভরা। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশটির ফুটবল টিকে থেকেছে। সেই অভিজ্ঞতাই এখন বিশ্বকাপ মঞ্চে তাদের প্রেরণা হয়ে উঠেছে। অনেক খেলোয়াড়ের মতে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যে বড় হওয়ায় চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাদের অন্যদের তুলনায় আলাদা।
দলটির বড় ভরসা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইন, ফরোয়ার্ড আলি আল-হামাদি এবং মিডফিল্ডার জিদান ইকবাল। এছাড়া অধিনায়ক জালাল হাসান ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন, যা দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
বিশ্বকাপে ইরাকের অতীত খুব সমৃদ্ধ নয়। ১৯৮৬ সালে তাদের একমাত্র অংশগ্রহণে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ‘মেসোপটেমিয়ার সিংহরা’। তাদের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চেও লড়াই করে সম্মান আদায় করা সম্ভব।
ইরাকের শিবিরে এখন বার্তাটি একটাই, তারা হয়তো ফেভারিট নয়, কিন্তু তারা যোদ্ধা। আর সেই মানসিকতা নিয়েই বিশ্বকাপে চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি। সূত্র: আলজাজিরা